- ২৬ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হতে এখনও প্রায় ছয় মাস বাকি থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়ন এবং সামনে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম সাংগঠনিক পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে দলটি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে অনুষ্ঠিতব্য সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরার বৈঠকে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
সূত্রগুলোর মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দলীয় পর্যায়ে একাধিক সাংগঠনিক দুর্বলতা সামনে এসেছে। বিশেষ করে প্রার্থী নির্বাচন, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক সক্রিয়তার ঘাটতি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় এনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকরভাবে মাঠে সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের পর দলীয় পর্যালোচনায় সাংগঠনিক পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে প্রস্তুতিতে বিলম্ব হতে পারে। তাই মজলিশে শুরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দলের আমির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ দুই বছর হলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ের আগেই কমিটি পুনর্গঠনের ক্ষমতা দলের আমিরের হাতে রয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিধান অনুসারেই আগাম পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
দলীয় অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে মহাসচিব পদ। দীর্ঘদিন ধরে এ দায়িত্ব পালন করা মাওলানা ইউনুছ আহমাদের পরিবর্তে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্ভাব্য নতুন মহাসচিব হিসেবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানের নাম আলোচনায় থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। একই সঙ্গে প্রেসিডিয়াম, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সচিব পর্যায়ের বিভিন্ন পদেও নতুন মুখ আনার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
দলীয় নেতারা বলছেন, এবারের পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য শুধু নেতৃত্বে পরিবর্তন নয়; বরং সংগঠনকে একটি আরও কার্যকর ও নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্ষম রাজনৈতিক দলে রূপান্তর করা। বিশেষ করে তরুণ, নারী এবং পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি ছাত্র ও যুবসংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীক নিয়ে এককভাবে অংশ নিয়ে দলটি একটি আসনে জয়লাভ করে এবং মোট ভোটের প্রায় ২ দশমিক ৭০ শতাংশ অর্জন করে। প্রায় ২২ লাখ ভোট পাওয়াকে দলটি ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য ইতিবাচক ভিত্তি হিসেবে দেখলেও সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠাকে এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, দলকে কেবল একটি চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। সে উদ্দেশ্যেই নির্বাচনী রাজনীতির উপযোগী সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তুলতে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী আন্দোলনের এই আগাম সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাস দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।