- ৩০ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, যার প্রভাব ধীরে ধীরে পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশেও। জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ হিসেবে সরবরাহ ঘাটতি ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপ মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বিবেচনায় নিচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি অফিসে জ্বালানি ব্যবহার কমাতে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু করা এবং অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে দায়িত্বশীল মহল।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সব সরকারি দপ্তর ও সংস্থাকে নিজস্ব পরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এদিকে শিক্ষা খাতেও পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আংশিকভাবে অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
সরকারি নির্দেশনায় অফিসগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দিনের বেলায় প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজন ছাড়া বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি অফিসে একটি করে নজরদারি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে, যারা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির ওপর চাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, যা তেল ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে গিয়ে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে উঠছে।
এ অবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে তুলনামূলক ব্যয়বহুল জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। পাশাপাশি দেশের সীমিত পরিশোধন সক্ষমতার কারণে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।