Saturday, March 28, 2026

দেশের ৬৪ জেলায় ৩,৮৪৯ জন চাঁদাবাজদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত


প্রতীকী ছবিঃ চাঁদা (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৬৪ জেলায় চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রোধের জন্য পুলিশের উদ্যোগে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই তালিকায় মোট ৩,৮৪৯ জন চাঁদাবাজের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার সংখ্যা ১,২৫৪ জন। বাকি ২,৫৯৫ জন দেশের অন্যান্য জেলায় সক্রিয় রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, এই চাঁদাবাজরা দীর্ঘদিন ধরে সড়ক, হাটবাজার, মাছ বাজার, ভ্রাম্যমাণ কাঁচাবাজার, সরকারি লিজকৃত জমি, পাইকারি আড়ত এবং বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্প থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে আসছে। অনেক সময় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া, তালা ঝুলিয়ে দেওয়া বা নির্মাণ কাজ বন্ধ করার মতো ঘটনাও ঘটায়।

পুলিশ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৯০ শতাংশ চাঁদাবাজ কোনো না কোনোভাবে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারা তাদের পরিচয় পরিবর্তন করে এবং ক্ষমতাসীন দলের ছত্রছায়ায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। চাঁদাবাজি থেকে আদায় হওয়া অর্থের একটি অংশ কখনো কখনো দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতা ও অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছেও পৌঁছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেন। বিশেষ করে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার পর মাঠ পর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ জোরদার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও দাগী আসামিদের জন্য একটি পৃথক তালিকাও প্রস্তুত হচ্ছে।

ঢাকার বিভিন্ন জোনে চাঁদাবাজদের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে ঘনবসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। ডিএমপি সূত্র জানায়, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, মিরপুর, পল্লবী, শাহবাগ, নিউ মার্কেট, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, মতিঝিল, লালবাগ, রূপনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা সক্রিয়। এদের মধ্যে স্থানীয় গ্যাং ও রাজনৈতিক দলের আওতাভুক্ত চাঁদাবাজদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

পুলিশ জানিয়েছে, তালিকাভুক্তদের প্রায় সকলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তালিকা শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে এবং এরপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার আশা করছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের প্রভাব কমানো সম্ভব হবে এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে তাদের কাজ পরিচালনা করতে পারবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন