- ২৬ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভারতের পশ্চিম রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলায় এক দরিদ্র পরিবারের ঘরে বসে পুরোনো একটি রসায়ন বই আঁকড়ে ধরে কাঁদছিলেন রাজেশ কুমার। বইটি তাঁর ছেলের—যিনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত থেমে যায় অভিযোগিত পরীক্ষার অনিয়ম ও পরীক্ষার ফল ঘিরে তৈরি হওয়া সংকটের মধ্যে।
ভারতের জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (এনইইটি) ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন শুধু একটি পরীক্ষা নয়—বরং হাজারো পরিবারের স্বপ্ন, আশা ও হতাশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
প্রায় ২৩ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়া এই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ভারতের কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি বাতিল করে নতুন তারিখ ঘোষণা করে। এর ফলে বহু শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষার নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছে। বারবার অভিযোগ আসায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
অনেক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর প্রস্তুতি নিয়ে ভালো ফল করার পরও পুনরায় পরীক্ষার সিদ্ধান্তে মানসিক চাপে পড়ে যায়। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারেননি।
একজন শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা তার পড়াশোনার মনোযোগ নষ্ট করে দিয়েছে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতীয় পরীক্ষাব্যবস্থার বড় একটি অংশ জাতীয় পরীক্ষা কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের জনবল ও কাঠামো সীমিত। ফলে এত বড় পরিসরে পরীক্ষা পরিচালনায় নানা ধরনের দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, কাগজ প্রণয়ন, মুদ্রণ, পরিবহন এবং পরীক্ষা কেন্দ্র পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মানবিক হস্তক্ষেপ থাকায় ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি উঠেছে।
এই ঘটনা ঘিরে ভারতজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় সরকারের পরীক্ষাব্যবস্থার সমালোচনা করে সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
অনেক অভিভাবক বলছেন, এই পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি তরুণদের ভবিষ্যৎকে গভীর সংকটে ফেলেছে।
পরীক্ষা ঘিরে অনিশ্চয়তা ও অভিযোগের মধ্যে অনেক পরিবার এখন আর শুধু ফলাফল নিয়ে চিন্তিত নয়—তারা হারিয়েছে সন্তানের স্বপ্ন, আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ।
এক অভিভাবকের ভাষায়, “এটি শুধু একটি পরীক্ষা নয়, এটি আমাদের সন্তানের জীবনকে ভেঙে দিয়েছে।”