Tuesday, May 26, 2026

বান্দার আব্বাসে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিমান হামলা, পাল্টা প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারি আইআরজিসির


ছবিঃ ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর ব্যাপক হামলা চালায়, যা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সংঘাতের জন্ম দেয়। (সংগৃহীত । বিবিসি নিউজ)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার সংঘটিত এসব হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ও নৌযান লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ জানায়, নিজেদের বাহিনীকে রক্ষার উদ্দেশ্যে এবং “আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা” হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, ইরানি বাহিনীর হুমকি মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিযান চলাকালীন সর্বোচ্চ সংযম বজায় রাখা হয়েছে।

মার্কিন সূত্র জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দর শহর বান্দার আব্বাসের নিকটবর্তী এলাকা, যা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত এবং ইরানের নৌঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এই প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ওই এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর স্থানীয় প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি যুদ্ধবিমান ও আরেকটি ড্রোনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে এসব ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

আইআরজিসি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতির কোনো লঙ্ঘন হলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার “বৈধ অধিকার” ইরানের রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা এখনো রয়েছে, তবে বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির কিছু শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি “ভালো চুক্তি অথবা কোনো চুক্তি নয়”—এই অবস্থানেই রয়েছেন।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউস দাবি করছে, হরমুজ প্রণালি যেকোনো পরিস্থিতিতেই খোলা রাখা হবে, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে এবং অঞ্চলটি আর তাদের সামরিক ঘাঁটির নিরাপদ জায়গা থাকবে না।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন