- ১৮ জুন, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্কঃ PNN
বিশ্বকাপের মঞ্চ শুধু ফুটবলীয় লড়াইয়ের গল্পই বলে না, জন্ম দেয় অসংখ্য মানবিক ও আবেগঘন মুহূর্তেরও। এবারের বিশ্বকাপের শুরুতেই তেমনই এক অনুপ্রেরণার গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে মূল্যবান এক ড্র এনে দেওয়া এই ৪০ বছর বয়সী ফুটবলার এখন আলোচনায় তার মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি মায়ের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণেও।
বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে কেপ ভার্দের সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী ছিলেন না ফুটবল বিশ্লেষকরা। অধিকাংশের ধারণা ছিল, ইউরোপীয় পরাশক্তির সামনে বড় ব্যবধানে হারতে হতে পারে আফ্রিকার দেশটিকে। কিন্তু ম্যাচের শুরু থেকেই সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেন ভোজিনহা। একের পর এক দুর্দান্ত সেভে স্পেনের আক্রমণভাগকে হতাশ করে দেন তিনি। তার অসামান্য নৈপুণ্যের ফলেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কেপ ভার্দে।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভোজিনহা জানান, তার জীবনের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর একটি হলেও গ্যালারিতে বসে খেলা দেখার জন্য পাশে ছিলেন না তার মা আনা কান্দিদা এভোরা। যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা বন্ডের ব্যয় বহন করতে না পারায় তিনি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারেননি। আবেগঘন সেই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
ঘটনাটি পরে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হন এবং মানবিক বিবেচনায় ভোজিনহার মায়ের ভিসা অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তার সেই প্রচেষ্টার ইতিবাচক ফলও মিলেছে দ্রুত।
বুধবার (১৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হাকিম জেফরিস জানান, আনা কান্দিদা এভোরার ভিসা অনুমোদিত হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ভিসা প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয় সব ফি মওকুফ করেছে এবং মায়ামিতে কেপ ভার্দের পরবর্তী ম্যাচের আগেই তাকে সেখানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভোজিনহার মায়ের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, কেপ ভার্দে সরকার এবং ফিফাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাকিম জেফরিস।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ২১ জুন উরুগুয়ের বিপক্ষে কেপ ভার্দের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে মায়ামিতে বহু প্রতীক্ষিত মা-ছেলের পুনর্মিলন ঘটবে। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মধ্যেই এই আবেগঘন গল্প এখন কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর কেড়েছে। গ্যালারিতে মায়ের উপস্থিতি ভোজিনহাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে কি না, আর সেই অনুপ্রেরণায় কেপ ভার্দে নতুন কোনো ইতিহাস রচনা করতে পারে কি না—সেই উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।