- ০৫ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বার্থে বেসরকারি বিনিয়োগ নেওয়ার বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিলের পরও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর চাপ কমেনি। পরিকল্পনাটি নিয়ে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি হিসেবে ফিফাকে আনুষ্ঠানিক ‘প্রিজারভেশন লেটার’ পাঠিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা।
ফিফার বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান গঠন এবং সেখানে সংখ্যালঘু অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। প্রস্তাবিত কাঠামোর মাধ্যমে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর আওতায় ফিফার ২১১ সদস্যদেশকে এককালীন সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা জানানো হয়।
তবে পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। উয়েফাসহ ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল সংস্থা প্রস্তাবটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষের আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফিফা নেতৃত্ব।
পরিকল্পনাটি বাতিল হলেও বিষয়টি নিয়ে সম্ভাব্য আইনি লড়াইয়ের পথ খোলা রেখেছে উয়েফা। ফিফাকে পাঠানো ‘প্রিজারভেশন লেটার’-এ সংশ্লিষ্ট নথি, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, ই-মেইল ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মামলা বা সালিশি প্রক্রিয়া শুরু হলে এসব নথি প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে জড়িত ফিফা ও সংস্থাটির শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে আইনি পর্যালোচনার কথাও ভাবছে উয়েফা। ফলে পরিকল্পনাটি বাতিল হলেও ফিফার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়া ও নেতৃত্বের জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে।
এ ঘটনার প্রভাব পড়তে পারে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বেও। সাম্প্রতিক বিতর্কের পর ইউরোপীয় ফুটবল মহলে তাঁর প্রতি সমর্থন কমেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। উয়েফার কয়েকটি সদস্যসংস্থা তাঁর নেতৃত্বের বিকল্প নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে বলেও জানা গেছে।
তবে ফিফার ২১১ সদস্যসংস্থার মধ্যে আফ্রিকা, এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের বেশ কিছু দেশের সমর্থন এখনো ইনফান্তিনোর পক্ষে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ইউরোপের কঠোর অবস্থান সত্ত্বেও তাঁর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে এখনই পৌঁছানো যাচ্ছে না।
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই সংস্থা ফিফা ও উয়েফার মধ্যে এই বিরোধ এখন কেবল একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি ফিফার ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক কাঠামো, বিশ্বকাপের মালিকানা ও পরিচালনব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক ফুটবলে নেতৃত্বের প্রশ্নকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।