Thursday, August 6, 2026

বিতর্কিত ৪.২ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনা প্রত্যাহার, ইনফান্তিনোর পাশে দাঁড়াল ফিফা


ছবিঃ ১২ জুন ২০২৬ তারিখে ইংলউডের লস এঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের একটি গ্রুপ পর্বের ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতিক্রিয়া (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার ভেতরে সাম্প্রতিক নেতৃত্ব সংকট ও বিতর্কের পরও সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে সংস্থাটির শীর্ষ প্রশাসন। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকের পর ফিফা জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর তাদের আস্থা অটুট রয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ফিফার একটি প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে, যেখানে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওই উদ্যোগ থেকে প্রায় ৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে পরিকল্পনাটি বিশ্ব ফুটবলের বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়লে শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ফিফা।

এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাসহ কয়েকটি মহাদেশীয় কনফেডারেশন ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে তার সম্ভাব্য চতুর্থ মেয়াদের পুনর্নির্বাচনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়।

সংকট মোকাবিলায় ডাকা জরুরি বৈঠক শেষে ফিফা এক বিবৃতিতে জানায়, সংস্থার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রম এবং ব্যবস্থাপনা বোর্ডের সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বিবৃতিতে তাকে ২১১টি সদস্য দেশের ভোটে নির্বাচিত একমাত্র বৈধ সভাপতি হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

জবাবে ইনফান্তিনোও ফিফার প্রশাসনিক নেতৃত্ব এবং মহাসচিবের প্রতি নিজের আস্থা প্রকাশ করেন।

তবে ফিফা স্বীকার করেছে, বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কিছু ভুল হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বিষয়ে সদস্য দেশ ও পরিচালনা পরিষদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন মূল্যায়নও করা হবে।

একই সঙ্গে ফিফা সতর্ক করে বলেছে, সংস্থার সততা ও সুনামের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বিতর্কের সময় উয়েফা প্রকাশ্যে জানায়, তারা ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়েছে। পাশাপাশি ফিফার কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধও পাঠানো হয়। এদিকে ইনফান্তিনোর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা কার্লোস কর্দেইরো পদত্যাগ করেন এবং সাবেক আর্সেনাল কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গারও প্রস্তাবিত পরিকল্পনা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উয়েফা, কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের কিছু প্রভাবশালী সদস্য ফিফার বর্তমান নেতৃত্বে পরিবর্তন না এলে সংস্থার কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি করা কিংবা বিকল্প আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছিল।

তবে অন্যদিকে কাতারসহ আফ্রিকার বেশ কয়েকটি সদস্য ফেডারেশন প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে, যা ফিফার অভ্যন্তরে বিভক্ত অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই ঘটনাপ্রবাহ শুধু একটি বিতর্কিত আর্থিক পরিকল্পনাকে ঘিরেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ফিফার ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো, স্বচ্ছতা এবং নেতৃত্ব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনারও সূচনা করেছে। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নটি তাই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন