- ২১ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
এআই প্রযুক্তি ঘিরে দ্রুত বদলে যাওয়া ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে রাংলেয়ার ও রিপলিংয়ের সাম্প্রতিক আইনি বিরোধ। একে অপরের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলাই বুধবার রাতে প্রত্যাহার করে নিয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে এ জন্য কোনো সমঝোতা হয়নি, অর্থ লেনদেনও হয়নি। এমনকি আদালতের নথি অনুযায়ী, আইনজীবীদের ফিও পরিশোধ করা হয়নি।
মামলা প্রত্যাহারের পরপরই রিপলিং তাদের নিজস্ব MCP গেটওয়ে বাজারে আনার ঘোষণা দেয়। দুই প্রতিষ্ঠানের আইনি লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতেই ছিল এই প্রযুক্তি, যা রাংলেয়ারের পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে।
ঘটনাটি প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—এআইয়ের যুগে নতুন সফটওয়্যার তৈরি করা যেমন দ্রুত ও সহজ হয়ে গেছে, তেমনি সম্ভাব্য গ্রাহকও যে কোনো সময় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন।
রাংলেয়ার একটি তুলনামূলক নতুন প্রযুক্তি স্টার্টআপ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি প্রকাশ্যে কার্যক্রম শুরু করে। এখন পর্যন্ত তারা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন তৃতীয়বারের উদ্যোক্তা অ্যান্ড্রু বারম্যান।
অন্যদিকে রিপলিং মূলত বেতন ও কর্মী-সুবিধা ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এআইভিত্তিক বিভিন্ন সেবার বাজারেও প্রতিষ্ঠানটি সক্রিয় হচ্ছে।
রাংলেয়ারের করা মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, রিপলিং এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তাদের MCP গেটওয়ে পরীক্ষা করেছিল। এ সময় দুই প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশল দল ঘনিষ্ঠভাবে কাজও করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিপলিং রাংলেয়ারের গ্রাহক হয়নি।
বরং রাংলেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা অ্যান্ড্রু বারম্যান রিপলিংয়ের এক কর্মীর কাছ থেকে একটি বার্তা পান। সেখানে জানানো হয়, রিপলিং নিজেদের MCP গেটওয়ে তৈরি করছে এবং সেটিকে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে। ওই কর্মী পণ্যটিকে রাংলেয়ারের প্রযুক্তির ‘ক্লোন’ হিসেবেও বর্ণনা করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এরপরই রাংলেয়ার দাবি করে, রিপলিং তাদের পণ্য পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত চুক্তিগত শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এই অভিযোগে আদালতে মামলা করে তারা।
রাংলেয়ারের মামলার পর রিপলিংও পাল্টা আইনি পদক্ষেপ নেয়। তারা অভিযোগ করে, রাংলেয়ার তাদের কয়েকটি পেটেন্ট লঙ্ঘন করেছে।
রাংলেয়ারের পক্ষ থেকে পাল্টা মামলাটিকে এমন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়েছিল, যার মাধ্যমে তাদের মূল মামলা প্রত্যাহারে চাপ সৃষ্টি করা এবং আইনি ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে।
এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে মামলার তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া বা ডিসকভারি চলার পর রাংলেয়ার নিজেদের মামলা প্রত্যাহার করে নেয়। পরে রিপলিংও তাদের পাল্টা মামলা প্রত্যাহার করে।
তবে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো আর্থিক সমঝোতা হয়নি। অর্থাৎ মামলা শেষ হলেও কোনো পক্ষ অন্য পক্ষকে অর্থ দেয়নি।
MCP গেটওয়ে মূলত প্রতিষ্ঠানের এআই এজেন্টকে বিভিন্ন সফটওয়্যার সিস্টেম থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য নিরাপদে সংগ্রহ করার সুযোগ দেয়।
উদাহরণ হিসেবে, কোনো নিয়োগকর্তা যদি এআই এজেন্টকে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা পাঁচজন সেরা প্রার্থীর নাম, ই-মেইল ও অন্যান্য তথ্য দিতে বলেন, তাহলে এআই এজেন্টকে প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার থেকে সেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
সরাসরি ওই সফটওয়্যারে এআই এজেন্টের প্রবেশাধিকার না দিয়ে MCP গেটওয়ে সেই তথ্য আদান-প্রদানের মধ্যবর্তী নিরাপদ স্তর হিসেবে কাজ করে। এর সঙ্গে কর্মীর দায়িত্ব অনুযায়ী তথ্য ব্যবহারের অনুমতি, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, লগ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সুবিধাও যুক্ত করা যায়।
মামলা শেষ হওয়ার পর রিপলিং দ্রুত নিজেদের MCP গেটওয়ে বাজারে নিয়ে আসায় এআই অবকাঠামো ও নিরাপত্তা খাতে তাদের প্রবেশ আরও স্পষ্ট হয়েছে।
সম্প্রতি রিপলিং এমন একটি এআই গেটওয়েও চালু করেছে, যা বিভিন্ন এআই মডেলের মধ্যে অনুরোধ পরিচালনা করতে পারে এবং কর্মীভিত্তিক টোকেন ব্যবহারের হিসাব দেখায়। এই বাজারে তারা স্ট্রাইপ, র্যাম্প ও ডেটাব্রিকসের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামছে।
এবার MCP গেটওয়ের মাধ্যমে এআই নিরাপত্তা খাতেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে রিপলিং। এ ক্ষেত্রে রাংলেয়ার, ডকার ও অ্যামাজন বেডরকের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে রাংলেয়ারের ব্যবসায়িক মডেল তুলনামূলকভাবে আরও বিস্তৃত। MCP গেটওয়ের পাশাপাশি এআই এজেন্ট তৈরি, প্রতিষ্ঠানের অজান্তে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো এআই’ শনাক্ত করা এবং এজেন্ট নিরাপত্তার বিভিন্ন সেবা দেওয়ার দিকে নজর দিচ্ছে তারা।
রাংলেয়ার-রিপলিংয়ের কয়েক সপ্তাহের এই আইনি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ বা সমঝোতায় গড়ায়নি। তবে ঘটনাটি এআই খাতে দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রতিযোগিতার বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। যে প্রযুক্তি নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় পরীক্ষা চালায়, অল্প সময়ের মধ্যেই সেই গ্রাহক নিজেই একই বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে হাজির হতে পারে—রাংলেয়ার ও রিপলিংয়ের ঘটনা তারই উদাহরণ।