Tuesday, August 18, 2026

অ্যাপলের স্পাইওয়্যার সতর্কবার্তা পেলেন রেকর্ডসংখ্যক গ্রাহক


ছবিঃ ফোনের (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

অ্যাপলের ডিভাইসে শক্তিশালী স্পাইওয়্যার হামলার আশঙ্কা নিয়ে সম্প্রতি বিপুলসংখ্যক গ্রাহক সতর্কবার্তা পেয়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপলের পক্ষ থেকে একসঙ্গে এত বেশি গ্রাহককে এমন সতর্কবার্তা পাঠানোর ঘটনা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শুক্রবার বিশ্বের ১১০টি দেশের গ্রাহকদের নতুন দফায় সতর্কবার্তা পাঠায় অ্যাপল। এতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিভাইস শক্তিশালী স্পাইওয়্যার দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে। এর পর গত সপ্তাহান্তে বিভিন্ন দেশের অনেক ব্যবহারকারী প্রকাশ্যে ও ব্যক্তিগতভাবে একই ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার কথা জানান।

সরকারি সংস্থা বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষ সাধারণত যেসব অত্যাধুনিক নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে, অ্যাপল সেগুলোকে ‘মার্সেনারি স্পাইওয়্যার’ হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতিষ্ঠানটি কয়েক বছর ধরে এ ধরনের হামলার সম্ভাবনা শনাক্ত হলে নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে আসছে। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের মানুষকে এ ধরনের সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

তবে এবারের সতর্কবার্তার সংখ্যা আগের সব দফাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা।

ডিজিটাল অধিকার সংগঠন অ্যাকসেস নাওয়ের তদন্ত দলের পরিচালক মোহাম্মদ আল-মাসকাটি জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে স্পাইওয়্যার নিয়ে সহায়তা চেয়ে তাদের কাছে যোগাযোগের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এমনকি অতীতে অ্যাপলের কাছ থেকে সতর্কবার্তা পাওয়া ব্যক্তিদের কেউ কেউ এবারও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করেছেন।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান আইভেরিফাইও অ্যাপলের কাছ থেকে পাওয়া স্পাইওয়্যার সতর্কবার্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন দেশের ব্যবহারকারীদের একই ধরনের সতর্কবার্তা পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে ইউক্রেনের একজন সেনাসদস্যও রয়েছেন, যিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করা ওই সেনাসদস্য প্রথমে সতর্কবার্তাটিকে প্রতারণামূলক বার্তা মনে করেছিলেন। পরে অ্যাপলের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করে তিনি নিশ্চিত হন।

তিনি জানান, ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর আরও কয়েকজন সদস্য একই ধরনের সতর্কবার্তা পেয়েছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

দ্য সিটিজেন ল্যাবের জ্যেষ্ঠ গবেষক জন স্কট-রেলটন বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে এত বিপুলসংখ্যক মানুষের সতর্কবার্তা পাওয়ার প্রকাশ্য প্রতিবেদন অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তার মতে, প্রকাশ্যে আসা ঘটনাগুলো আসলে আরও বড় একটি চিত্রের সামান্য অংশ হতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার সতর্কবার্তার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পেছনে অ্যাপলের নতুন নোটিফিকেশন ব্যবস্থাও ভূমিকা রাখতে পারে। চলতি বছর থেকে আইফোনের লকস্ক্রিন, সেটিংস অ্যাপ, অ্যাপল অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ই-মেইল এবং ওয়েবে অ্যাপল অ্যাকাউন্টে লগইন করার সময়ও ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা দেখানো হচ্ছে।

অ্যাকসেস নাওয়ের আল-মাসকাটির মতে, নতুন পদ্ধতিতে সতর্কবার্তা দেওয়ার ফলে ব্যবহারকারীদের কাছে বিষয়টির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে এবং আগের তুলনায় সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার সুযোগ কমছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অ্যাপল থেকে এ ধরনের নোটিফিকেশন পেলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী বা সংবেদনশীল কাজে যুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ ধরনের হামলার ঝুঁকি কমাতে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকে অ্যাপলের ‘লকডাউন মোড’ চালু করার পরামর্শও দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। এটি ডিভাইসে অত্যাধুনিক সাইবার হামলা চালানো কঠিন করে তুলতে বিশেষভাবে তৈরি করা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অ্যাপল জানিয়েছে, লকডাউন মোড চালু থাকা অবস্থায় স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হওয়ার কোনো ঘটনা সম্পর্কে তারা এখনো অবগত নয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন