- ০৮ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নেত্রকোনা
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় গণমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার পর এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
জানা গেছে, গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার উপজেলার একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৩০ এপ্রিল শারীরিক জটিলতা নিয়ে এক কিশোরী তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তিনি জানতে পারেন, মেয়েটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
পরবর্তীতে কিশোরী ও তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক জোরপূর্বক ওই কিশোরীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ডা. সায়মা জিডিতে আরও বলেন, ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম তার কাছে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে চিকিৎসক হিসেবে প্রয়োজনীয় তথ্য দেন। পরে তার বক্তব্য বিভিন্ন টেলিভিশন, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হলে অজ্ঞাত কয়েকটি ফেসবুক আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে তাকে গালিগালাজ করা শুরু হয়।
এছাড়া তাকে হত্যা ও গণধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন।
পরিবারের সদস্যরা জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, এক নারী চিকিৎসক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পুলিশ কাজ করছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে, ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম এ আদেশ দেন।
এর আগে পুলিশ তার বিরুদ্ধে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। আদালত আগামী ১০ মে রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন।