Saturday, June 27, 2026

রায়পুরের চার খুন: কল মিস্ত্রি পরিচয়ে বিভ্রান্তির চেষ্টা


ছবিঃ মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, ঘাতকের পরিচয় নিয়ে যা জানা গেল (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরে মা ও তিন মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। ঘটনার সময় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নিজেকে কল ও পাইপলাইনের মিস্ত্রি পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তবে তার অস্বাভাবিক আচরণে সন্দেহ জাগায় এক প্রতিবেশীর তৎপরতায় পালানোর সুযোগ পাননি তিনি।

প্রতিবেশী আফরোজা বেগম জানান, ঘটনার সময় ঘরের ভেতর থেকে কয়েক দফা চিৎকার শুনে তিনি দ্রুত জানালার কাছে যান। সেখানে শাহিনুর বেগমকে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। কিছুক্ষণ পর তিনি দেখতে পান, এক ব্যক্তি ঘরের ভেতরে চলাফেরা করছেন। প্রথমে তাকে পরিবারের সদস্য ভেবে ডাকলেও কোনো উত্তর না পেয়ে সন্দেহ আরও গভীর হয়।

আফরোজা বলেন, পরে জানালার কাছে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে হাতে একটি প্যান্ট নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তিনি নিজের পরিচয় জানতে চাইলে অন্তর নিজেকে কল ও পাইপলাইন মেরামতের মিস্ত্রি বলে দাবি করেন। কিন্তু পরিস্থিতি এবং তার আচরণ স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় আফরোজার সন্দেহ আরও বেড়ে যায়।

তিনি জানান, একপর্যায়ে ঘরের ভেতর সম্পূর্ণ নীরবতা নেমে আসে। তখন সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় তিনি বাইরে থেকে বাসার দরজায় তালা লাগিয়ে আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে স্থানীয়রা একসঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।

স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার ভবনের ছাদে উঠে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তর মজুমদার নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা। রায়পুরে তিনি ভাসমান ফল বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে প্রতিবেশীদের দাবি, তিনি একসময় 'জহির' নামে মুসলিম পরিচয় ব্যবহার করে এক নারীকে নিয়ে একই এলাকায় প্রায় এক বছর বসবাস করেছিলেন।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইমা আক্তার (২০), দ্বিতীয় মেয়ে রায়পুর কাজী ফারুকী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইকরা বেগম (১৭) এবং ছোট মেয়ে সিপা (৯)। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় হলেও দীর্ঘদিন ধরে রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কামাল হোসেনের মৃত্যুর পর শাহিনুর একাই সন্তানদের নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে মানববন্ধন করেছেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রছাত্রী কল্যাণ সমিতির সদস্যরা।

ঘটনার পর শনিবার সকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের নির্দেশ দেন। এর আগে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একজন ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ জানতে পুলিশ, সিআইডি ও র‌্যাবের একাধিক দল যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় নিহতদের ছেলে জিহাদুল ইসলাম শিফাত বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পাশাপাশি অভিযুক্তকে গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেও পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত চলছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন