- ২৬ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। পিরোজপুর
পিরোজপুরে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। বরিশাল বিভাগের মধ্যে বর্তমানে এই জেলাতেই সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হওয়ায় জনমনে বাড়ছে উৎকণ্ঠা। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১৭ জনে। ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর তথ্যও নিশ্চিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। এর মধ্যে ৩৭৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০ জন রোগী।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ১২ জন পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে, ৫ জন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ৩ জন নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে জেলা হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছেন ২২ জন ডেঙ্গু রোগী। চলতি বছরে এই হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬৯ জন।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় জেলা সদর হাসপাতালের ওপর চাপও বেড়েছে। সীমিত শয্যা ও জায়গার কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে অন্যান্য রোগীদের একই ওয়ার্ড বা কাছাকাছি স্থানে রাখতে হচ্ছে। এতে সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী রফিক শেখ জানান, চিকিৎসার মান সন্তোষজনক হলেও জায়গার সংকট রোগীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। নতুন হাসপাতালটি চালু হলে রোগীরা আরও ভালো পরিবেশে চিকিৎসা নিতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, সাধারণ এক রোগী অভিযোগ করে বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পাশেই থাকতে হচ্ছে, যা তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। তিনি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসা ব্যবস্থার দাবি জানান।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রাজধানী ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তদের মধ্যে পিরোজপুর সদর, ভাণ্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দার সংখ্যাই বেশি।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, জেলার সব সরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ২০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪০ জন এবং এ পর্যন্ত ৩৭৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্যশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জমে থাকা পানি অপসারণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর বিস্তার আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।