Saturday, June 27, 2026

চরফ্যাশনে ৪২ চিকিৎসকের স্থলে আছেন মাত্র ১৬ জন, সংকটে ছয় লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা


ছবিঃ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ভোলা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতিতে হাসপাতালটির সেবাব্যবস্থা চরম চাপের মুখে পড়েছে। জনবল সংকটের কারণে সীমিত সংখ্যক চিকিৎসককে প্রতিদিন শত শত রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী মেডিকেল অফিসারের ৪২টি পদ থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১৬ জন চিকিৎসক। একইভাবে ১০ জন বিশেষজ্ঞ কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুজন। ফলে বিভিন্ন বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এছাড়া শতাধিক রোগী নিয়মিত ভর্তি থাকেন। জরুরি বিভাগেও দিন-রাত রোগীর চাপ লেগেই থাকে। শুধু চরফ্যাশনের বাসিন্দারাই নন, পার্শ্ববর্তী দ্বীপ উপজেলা মনপুরার অনেক রোগীও চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার মাস বয়সী এক শিশুর বাবা সবুজ খান জানান, তার সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে কাঙ্ক্ষিত পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি হাসপাতালের টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যাও ভোগান্তি বাড়িয়েছে। সন্তানের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

শুধু চিকিৎসক সংকটই নয়, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতির ঘাটতি। প্রয়োজনীয় মেশিন না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। এতে চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি সময়ও নষ্ট হচ্ছে। রক্ত পরীক্ষাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এখনো পুরোনো পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞের সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাকও জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চিকিৎসকরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন এবং রোগীদের সেবা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চরাঞ্চল ও দ্বীপাঞ্চল নিয়ে বিস্তৃত এই উপজেলার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসক নিয়োগ, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ পূরণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন