Saturday, August 8, 2026

কুয়াকাটার সাগরে এক ট্রলারে ৪৬ মণ ইলিশ, নিলামে বিক্রি ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়


ছবিঃ ইলিশ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলারের জালে একসঙ্গে ধরা পড়েছে প্রায় ৪৬ মণ ইলিশ। বিপুল পরিমাণ এই মাছ মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে মহিপুর মৎস্য বন্দরের মনোয়ারা ফিশ আড়তে নিলামের মাধ্যমে ইলিশগুলো বিক্রি করা হয়। দীর্ঘদিন পর একটি ট্রলারে এত বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) পায়রা সমুদ্রবন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে এফবি জুনাইদ নামের ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যান মাঝি আলমগীর। সাগরে একবার জাল ফেলতেই ট্রলারটির জালে উঠে আসে প্রায় ২ হাজার ২০০টি ইলিশ। পরে শুক্রবার দুপুরে মাছ নিয়ে ট্রলারটি মহিপুর মৎস্য বন্দরে ফিরে আসে।

আড়ত সূত্রে জানা যায়, ধরা পড়া ইলিশের মধ্যে এক কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ ছিল ২৪ মণ। এসব ইলিশ প্রতি মণ ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়। এতে মোট দাম ওঠে ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এছাড়া ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ২২ মণ ইলিশ প্রতি মণ ৯৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকায়।

দুই শ্রেণির মাছ মিলিয়ে মোট ৪৬ মণ ইলিশ বিক্রি হয় ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়।

ট্রলারটির মাঝি আলমগীর বলেন, প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় ইলিশের চালান পেয়েছেন তারা। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মধ্যে থাকার পর এবার ভালো পরিমাণ মাছ পাওয়ায় তারা আনন্দিত।

মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন বলেন, অনেক দিন পর মহিপুর বন্দরে একসঙ্গে এত বেশি ইলিশ এসেছে। বাজারে বর্তমানে ইলিশের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় জেলেরা ভালো দাম পেয়েছেন। সাধারণত এত বড় আকারের ইলিশ একসঙ্গে পাওয়া যায় না।

এদিকে, একটি ট্রলারে একদিনে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়াকে আশাব্যঞ্জক ঘটনা হিসেবে দেখলেও এটিকে সাগরে ইলিশের সামগ্রিক প্রাচুর্যের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না গবেষকেরা।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে পরিচালিত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ মাছ ধরার বোটে প্রত্যাশিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় একটি ট্রলারে একসঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য অবশ্যই স্বস্তির খবর।

তবে এক দিনের ভালো আহরণকে ইলিশের সামগ্রিক প্রাচুর্যের সূচক হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, ইলিশের অবস্থার প্রকৃত চিত্র বুঝতে হলে ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের এই ইতিবাচক ধারা ধরে রাখতে জেলেদের সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, কয়েক দিন আগেও সাগরে ইলিশের সংকট ছিল। তবে বর্তমানে জেলেদের জালে তুলনামূলক ভালো পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে আরও বেশি ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিপুল পরিমাণ ইলিশ ধরা পড়ায় জেলে, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সাগরে ইলিশের এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে জেলেদের দীর্ঘদিনের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি ইলিশের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন