- ১৮ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের ব্যাংকিং খাত ২০২৫ সালে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছে। কয়েকটি ব্যাংকের বিপুল লোকসানের কারণে সামগ্রিকভাবে পুরো ব্যাংক খাত বছরের শেষে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকার নিট লোকসানে রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাত লাভে থাকলেও ২০২৫ সালে সেই ধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালে খাতটি উল্লেখযোগ্য মুনাফা করলেও ২০২৪ সালে মুনাফার পরিমাণ কমে যায়। পরবর্তী বছরে কয়েকটি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার মূল্যায়নের ফলে লোকসানের চিত্র আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক খাত সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কয়েকটি ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। এই মূল্যায়নে কিছু ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ পায়। এর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক বর্তমানে একীভূতকরণের প্রক্রিয়ার মধ্যেও রয়েছে।
ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত আর্থিক হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে কয়েকটি ইসলামী ধারার ব্যাংক। বিপুল পরিমাণ ঋণঝুঁকি, সম্পদের মানের অবনতি এবং আর্থিক অনিয়মের প্রভাব তাদের ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকও লোকসানের তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে কিছু দেশীয় ও বহুজাতিক ব্যাংক শক্তিশালী মুনাফা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য লাভ করেছে, যা সামগ্রিক লোকসানের পরিমাণ কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উদ্বেগজনক তথ্য হিসেবে উঠে এসেছে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের (ডিস্ট্রেসড লোন) উচ্চ হার। দেশের মোট ঋণের বড় একটি অংশ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ঋণের মধ্যে খেলাপি ঋণ, অবলোপন করা ঋণ, আদালতের নির্দেশনায় স্থগিত থাকা ঋণ এবং পুনর্গঠিত ঋণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাতের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার স্বচ্ছ মূল্যায়ন দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক হলেও বিপুল পরিমাণ ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর আর্থিক সংকট দেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। এজন্য সুশাসন, কার্যকর তদারকি এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংক খাতকে আরও স্থিতিশীল ও টেকসই করতে সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ কমিয়ে আর্থিক খাতের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।