- ০৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। খাগড়াছড়ি
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মো. রনিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে জেলা শহরের সবুজবাগ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেজ প্রাঙ্গণে থাকা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়া হয়। তবে ওই সময় বৃষ্টি চলছিল এবং স্মৃতিস্তম্ভটি লোহার কাঠামোয় নির্মিত হওয়ায় বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি প্লাস্টিকের বোতলও উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের নৈশপ্রহরী সেনময় ত্রিপুরা জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে দুই যুবক সাংগঠনিক কাজের কথা বলে কলেজে প্রবেশ করেন। পরে স্মৃতিস্তম্ভের দিক থেকে আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের জানানো হয়।
এ ঘটনার পর কলেজ ক্যাম্পাসে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র প্রতিনিধি জাহিদ হাসান ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা এ ধরনের নাশকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের কাছে এটি পরিকল্পিত নাশকতার ঘটনা বলে মনে হয়েছে। এ ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মো. রনিকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।