Saturday, July 4, 2026

জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় ২০ লাখ টাকার চুরির ঘটনায় পাঁচজন গ্রেফতার


ছবিঃ সুমন মিয়া ও নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। জামালপুর 

জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বসবাসরত এক বিচারক দম্পতির বাসায় সংঘটিত আলোচিত চুরির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারদের মধ্যে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাও রয়েছেন। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং চুরির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্তে তদন্ত চলছে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে আটক করা হয়। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীন মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে কর্মরত বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল ও বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী শহরের আমলাপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

গত ৩০ জুন ব্যক্তিগত কাজে বাইরে যাওয়ার পর রাতে বাসায় ফিরে বিচারক আহমাদুল কবির মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় ঘরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, হীরার আংটিসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার মূল্যবান মালামাল নিয়ে গেছে।

ঘটনার পরদিন আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে একই ভবনের এক গৃহকর্মীকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসায় কর্মরত আরেক গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন, গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া, কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব এবং দুই গৃহকর্মী নিলুফা ও হাওয়া বেগম।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সুমন মিয়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এবং নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সংগঠনটির সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে দলের কোনো সাংগঠনিক দায়িত্বে নেই; কেবল পূর্ববর্তী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

জামালপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। চুরির মূল পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেফতারের স্বার্থে চারজনের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনে সংঘবদ্ধ কোনো চক্র কাজ করেছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন