Friday, September 25, 2026

জ্বালানির দাম বাড়ানো নিয়ে সরকারের সমালোচনায় এবি পার্টি


ছবিঃ ৭ মাসে ২ বার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো সরকারের দেউলিয়াত্বের বহিঃপ্রকাশ (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আমদানি ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে এ বাস্তবতা স্বীকার করেও একসঙ্গে এর পুরো চাপ জনগণের ওপর না দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, ধাপে ধাপে ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে জ্বালানির দাম সমন্বয়ের সুযোগ ছিল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি: জনস্বার্থ ও অর্থনীতির ওপর প্রভাব’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মজিবুর রহমান মঞ্জুর দাবি, ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কৃষি, সেচ, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে। এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তার ওপরও।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে, তবে সেই চাপ একবারে জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তাঁর ভাষায়, প্রয়োজন ‘প্রাইস শক’ নয়, বরং ধাপে ধাপে ‘প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট’।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ডিজেলের দাম বাড়লে সেচ পাম্প, পাওয়ার টিলার, হারভেস্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র পরিচালনার খরচ বাড়বে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামনে বোরো মৌসুম থাকায় বিষয়টি কৃষকের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মূল্যস্ফীতির প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, আগস্টে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং জাতীয় মজুরি বৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ ছিল। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম বাড়ানো মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেন দলের ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান। তিনি বলেন, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বেশি দামে জ্বালানি কিনে কম দামে বিক্রির কারণে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান করেছে বলে সরকার জানিয়েছে। তবে এই হিসাবের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ও বিমা ব্যয়, বিনিময় হার, কর, আমদানি ও বিতরণ ব্যয়সহ বিপিসির প্রকৃত খরচের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

নোমান বলেন, সংকট মোকাবিলায় আমদানি শুল্ক ও কর সাময়িকভাবে সমন্বয়ের পাশাপাশি বিপিসির দক্ষতা বাড়ানো, অপচয় কমানো এবং জ্বালানি চুরি বন্ধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে এবি পার্টি জ্বালানির মূল্য নির্ধারণে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে কৃষি ও পরিবহন খাতে ব্যবহৃত ডিজেলের জন্য পৃথক মূল্যনীতি, ধাপে ধাপে দাম সমন্বয়, আন্তর্জাতিক বাজার ও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং দাম কমলে সেই সুবিধা জনগণকে দেওয়ার দাবি রয়েছে।

এ ছাড়া প্রকৃত কৃষক ও কৃষিযন্ত্রের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক ডিজেল সহায়তা, জ্বালানির দাম বাড়ার অজুহাতে অযৌক্তিক পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ঠেকানো, বিপিসির আমদানি ও বিতরণ ব্যবস্থার স্বাধীন অডিট, সীমান্তপথে জ্বালানি পাচার বন্ধে ডিজিটাল নজরদারি এবং সংকট মোকাবিলায় জরুরি জ্বালানি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।

দলটির নেতারা দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় জ্বালানি অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জ্বালানি দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, রাজস্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে কর ফাঁকি বন্ধ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অপচয় ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দেওয়া উচিত।

সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন এবং ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ২১ সেপ্টেম্বর ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রলের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৬০ টাকা নির্ধারণ করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এটিকে ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির তৃতীয় দফা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন