- ৩০ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশে জ্বালানি সংকটের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, কর্মসূচিতে প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল ব্যয় হতে পারে। একই সঙ্গে জামায়াতের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি দেওয়া ওই পোস্টে রাশেদ খান সরকারের মেয়াদ ছয় মাস পেরিয়ে সাত মাসে প্রবেশের বিষয়টি উল্লেখ করে জামায়াতের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য ‘মরিয়া’ হয়ে ওঠার অভিযোগ করেন। তার দাবি, দলটি ক্ষমতায় যেতে না পারলেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রে অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
রাশেদ খান তার পোস্টে আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের ঘোষিত কর্মসূচির আড়ালে আওয়ামী লীগের মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ প্রসঙ্গে জামায়াতের এমপি আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে বলে নিজের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত একসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাঠে নামতে পারে। আর সেই সম্ভাবনার পথ তৈরি করতেই লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
রাশেদ খান আরও দাবি করেন, অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা করে দুই পক্ষ ক্ষমতার স্বার্থে একত্রিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার অভিযোগ, জাতীয় সংকটের পরিবর্তে রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের এমন পরিস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে লংমার্চ আয়োজন কতটা যৌক্তিক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জ্বালানি সংকটকে আরও চাপের মুখে ফেলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।
তবে রাশেদ খানের এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগের ভিত্তিতে দেওয়া। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।