- ০৭ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়াসরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবেনিজ ঘোষণা দিয়েছেন, জাতীয় জ্বালানি মজুত বাড়াতে প্রায় ১০ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার ব্যয় করা হবে এবং একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো স্থায়ী সরকারি মালিকানাধীন জ্বালানি রিজার্ভ গড়ে তোলা হবে।
সরকারি এই উদ্যোগের আওতায় প্রায় ১ বিলিয়ন লিটার জ্বালানি মজুত রাখা হবে, যা দেশের অভ্যন্তরে অন্তত ৫০ দিনের চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিলে সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হয়।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আসন্ন জাতীয় বাজেটে “জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্যাকেজ” অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এর লক্ষ্য শুধু বর্তমান সংকট নয়, ভবিষ্যতের যেকোনো জ্বালানি বিপর্যয় থেকেও দেশকে সুরক্ষিত রাখা।
এই প্যাকেজের একটি অংশ হিসেবে প্রায় ৩.২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে ডিজেল ও বিমান জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। পাশাপাশি, জ্বালানি আমদানিকারক ও পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিদ্যমান বাধ্যতামূলক মজুতের সীমা ৩০ দিন থেকে বাড়িয়ে আরও ১০ দিন করা হচ্ছে।
এছাড়া প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে জ্বালানি ও সার সরবরাহ এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে। এই অর্থ ঋণ, বিনিয়োগ, গ্যারান্টি ও মূল্য সহায়তার মাধ্যমে ব্যবহার করা হবে।
জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ায় এতদিন কোনো সরকারি জ্বালানি রিজার্ভ ছিল না। নতুন এই উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠেছে। গ্র্যাটান ইনস্টিটিউট-এর জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রিজার্ভ বাস্তবে কীভাবে পরিচালিত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাদের মতে, বেসরকারি খাতের মজুত বাড়ানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারত।
অন্যদিকে, জাতীয় সড়ক ও মোটরচালক সমিতি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জ্বালানি সংরক্ষণে সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।