Thursday, May 7, 2026

ওপেনএআই মামলায় নতুন তথ্য: মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়তে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চেয়েছিলেন ইলন মাস্ক


ছবিঃ [1/5] ওপেনএআই-এর প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান, তার স্ত্রী অ্যানাকে সাথে নিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের একটি ফেডারেল আদালতের বাইরে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। সেখানে ওপেনএআই-কে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার অভিযোগে ইলন মাস্কের করা মামলার বিচারকার্য চলছে, ৫ মে, ২০২৬। রয়টার্স/ম্যানুয়েল অরবেগোজো লাইসেন্সিং স্বত্ব ক্রয় করুন (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডে চলমান এক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান জানিয়েছেন, ইলন মাস্ক একসময় ওপেনএআইকে অলাভজনক থেকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পক্ষে ছিলেন এবং এর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিতে চেয়েছিলেন।

ব্রকম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মাস্ক মনে করেছিলেন অলাভজনক কাঠামোতে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন। তাই তিনি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন এবং নেতৃত্ব নিজের হাতে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তার মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি করতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন ছিল।

আদালতে আরও বলা হয়, মাস্ক তখন উল্লেখ করেছিলেন যে মঙ্গল গ্রহে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর গড়ে তুলতে তার প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য ওপেনএআইয়ের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দরকার বলেও তিনি মত দেন।

এই মামলায় মাস্ক অভিযোগ করেছেন যে, স্যাম অল্টম্যান এবং ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ তাকে বিভ্রান্ত করে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩৮ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিতে বাধ্য করে, পরে সেটিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হয়। তিনি ১৫০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান নেতৃত্ব পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, মাস্ক প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যাওয়ার পর তাদের সাফল্যে ক্ষুব্ধ হয়ে এই মামলা করেছেন এবং নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে আইনি লড়াই করছেন।

আদালতে আরও উঠে এসেছে, ২০১৯ সালে ওপেনএআই একটি নতুন কাঠামোতে রূপান্তরিত হয়, যেখানে অলাভজনক মূল সংস্থার অধীনে একটি লাভজনক ইউনিট গঠন করা হয়। এর ফলে বাইরের বিনিয়োগ গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হয়।

বর্তমানে ওপেনএআই বিপুল বিনিয়োগ সংগ্রহ করে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে বিশাল আকারের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনাও করছে।

সব মিলিয়ে, এই মামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নয়; বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন