- ০৭ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
বেইজিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছেন আব্বাস আরাকচি এবং চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই। বুধবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি এমন এক সময় হলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিগগিরই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের পর এই প্রথমবার চীন সফরে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই সংঘাতের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক চীনের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৈঠক শেষে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা সম্পর্কে চীনকে অবহিত করেছেন আরাকচি। তিনি বলেন, ইরান যেমন নিজের নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, তেমনি কূটনৈতিক পথেও সমাধান খুঁজতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ন্যায়সংগত ও সর্বাঙ্গীণ চুক্তির ভিত্তিতেই কেবল তারা আলোচনায় এগোতে রাজি বলেও জানান তিনি।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি যুদ্ধ থেকে শান্তির দিকে পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তারা দ্রুত সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার ওপর গুরুত্বারোপ করে। একই সঙ্গে Strait of Hormuz প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানায় বেইজিং।
পারমাণবিক ইস্যুতেও চীন জানায়, তারা ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানায় এবং শান্তিপূর্ণভাবে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি চীনকে ইরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকে। জানা গেছে, আগামী ১৪ থেকে ১৫ মে বেইজিংয়ে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের বৈঠকে ইরান ইস্যু গুরুত্ব পাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর চীন কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর অবস্থান নেয়নি। এতে বোঝা যায়, তারা একদিকে উত্তেজনা কমাতে চায়, অন্যদিকে বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও ভারসাম্যে রাখতে আগ্রহী।
উল্লেখ্য, সংঘাতের আগে ইরানের রপ্তানিকৃত তেলের বড় অংশই কিনত চীন। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বেইজিংয়ের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।