- ০৭ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। মস্কো ঘোষিত দুই দিনের একতরফা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে মঙ্গলবার রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। একটি গাড়ি মেরামতের কারখানা এবং আশপাশের আবাসিক ভবনে আঘাত হানে এই হামলা, যা চলতি বছরে শহরটিতে সবচেয়ে ভয়াবহগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান।
এছাড়া পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ক্রামাতোরস্কে ছয়জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। ডিনিপ্রো শহরেও পৃথক হামলায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
রুশ বাহিনীর হামলায় ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। পোলতাভা ও খারকিভ অঞ্চলে রাতভর চালানো এই হামলায় তিনজন কর্মী ও দুইজন উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফটোগাজ-এর প্রধান সেরহি কোরেতস্কি। তিনি বলেন, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় সাড়ে তিন হাজার গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি । তিনি রাশিয়ার যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ‘ভণ্ডামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, একদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা, অন্যদিকে অব্যাহত হামলা—এটি সম্পূর্ণ অর্থহীন ও নিন্দনীয়।
রাশিয়া ৮ ও ৯ মে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত বিজয়ের বার্ষিকী উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ইউক্রেন পাল্টা অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়, যা এখনো কার্যত উপেক্ষিত রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাশিয়া ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৬৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু হামলা বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানে।
অন্যদিকে, পাল্টা হামলায় ইউক্রেনও রাশিয়ার ভেতরে আঘাত হেনেছে। ক্রিমিয়ার ডিজানকোই শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রুশপন্থী প্রশাসক। রাশিয়ার চুভাশিয়া অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত ও অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। যায়নি, তবে ঘটনাটি রাশিয়ার জ্বালানি খাতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির আগমুহূর্তেও সহিংসতা না থামায় শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।