- ০৭ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে দাবি করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত-এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে ইরান ।
মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাতের বিরুদ্ধে তারা কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা চালায়নি। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, এমন কোনো অভিযান চালানো হলে তা স্পষ্টভাবে জানানো হতো। আমিরাতের দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলেও উল্লেখ করে তারা।
অন্যদিকে, আমিরাতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগের দিনের হামলায় অন্তত তিনজন আহত হওয়ার পর মঙ্গলবার নতুন করে আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় ফুজাইরাহ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। সর্বশেষ হামলার ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ চালু করেছে, যার লক্ষ্য Strait of Hormuz প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি রপ্তানি এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান প্রণালীটিতে প্রভাব বিস্তার বাড়িয়েছে। জাহাজ চলাচলে হুমকি বা হামলার ঘটনায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেল-গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে।
এরই মধ্যে গত ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দর ও জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র, যা তেহরানের অর্থনৈতিক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরান দাবি করে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে তারা স্বীকার করেছে যে ইরান ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল, যেগুলো প্রতিহত করা হয়।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর সোমবারই প্রথমবারের মতো আমিরাতের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয় বলে জানায় দেশটি। সবগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হলেও ফুজাইরাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন লাগে এবং তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখনও অস্থির রয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।