Thursday, May 7, 2026

গাজার যুদ্ধের মধ্যে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডি: সন্তানের জন্মের দিনই হারালেন স্বামী


ছবিঃ আমাল সোবেইহ গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যা যুদ্ধে তার স্বামী ইয়াহিয়াকে হারিয়েছেন এবং এখন তিনি একাই তার তিন সন্তানকে লালন-পালন করছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । আবদেলহাকিম আবু রিয়াশ/আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

একই দিনে আনন্দ আর শোকের এমন মর্মান্তিক মিলন বিরল। গত বছরের ৭ মে এক ফিলিস্তিনি নারী আমাল সোবেইহ সন্তানের জন্ম দিলেও একই দিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার স্বামী ইয়াহইয়া সোবেইহ নিহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইয়াহইয়া ভোরে স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাদের তৃতীয় সন্তান কন্যা শিশু সানার জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পর কয়েক ঘণ্টা তিনি স্ত্রী ও নবজাতকের সঙ্গে হাসপাতালে সময় কাটান, শিশুকে কোলে নেন এবং আনন্দ ভাগ করে নেন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে।

পরিবার জানায়, ইয়াহইয়া পরে কিছুক্ষণের জন্য বাইরে বের হন এবং দ্রুত ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময়ই গাজা সিটির একটি বাণিজ্যিক এলাকায় বিমান হামলায় তিনি প্রাণ হারান। ওই হামলায় অন্তত আরও ১৭ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন।

নিহত ইয়াহইয়া পেশায় একজন সাংবাদিক ছিলেন। তিনি যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করতেন এবং সামাজিক মাধ্যমে নবজাতক কন্যার ছবি শেয়ারও করেছিলেন।

স্ত্রী আমাল জানান, স্বামীর মৃত্যুর খবর তিনি হাসপাতালে অবস্থানকালে জানতে পারেন। প্রথমে আশপাশের মানুষের অস্বাভাবিক আচরণে তার সন্দেহ হয়। পরে অনলাইনে খবর দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে স্বামী আর বেঁচে নেই। তিনি বলেন, “আমি বারবার ফোন করেছি, কিন্তু কোনো সাড়া পাইনি। এরপরই আমি সেই ভয়াবহ খবরটি দেখি।”

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইয়াহইয়া মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা নবজাতক কন্যার সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন এবং তাকে আদর করে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর আমাল মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও এখন তিন সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান, যুদ্ধের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁকে দক্ষিণ গাজার একটি আশ্রয়শিবিরে যেতে হয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্বামীর মতোই একই মিডিয়া প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, সন্তানদের বড় করার জন্যই তাকে শক্ত থাকতে হচ্ছে, যদিও স্বামীর অনুপস্থিতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।

ছোট কন্যা সানা, যার জন্মদিনই হয়ে উঠেছে তার বাবার মৃত্যুর দিন, এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় আবেগের কেন্দ্রবিন্দু। মা আমাল বলেন, “আমি যখন ওর মুখের দিকে তাকাই, তখন তার বাবার অনেক কিছুই দেখতে পাই।”

এই হৃদয়বিদারক ঘটনা গাজায় চলমান সংঘাতের ভয়াবহ মানবিক সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন