Tuesday, May 5, 2026

ক্রুড সংকটে বন্ধ ইস্টার্ন রিফাইনারি, ১৯ দিনে পরিশোধন হয়নি প্রায় ১ লাখ টন জ্বালানি


ছবিঃ ইস্টার্ন রিফাইনারি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ গত ১৯ দিনে প্রায় এক লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন-কে বাড়তি খরচে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপরিশোধিত জ্বালানি (ক্রুড অয়েল) সময়মতো দেশে না পৌঁছানোর কারণে গত ১৪ এপ্রিল থেকে রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ে ক্রুডবাহী জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি।

রিফাইনারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে এক লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল বহনকারী একটি জাহাজ ৫ মে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। জাহাজটি পৌঁছানোর পর দ্রুত আনলোডিং প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং আশা করা হচ্ছে ৭ মে থেকে আবার পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন চালু করা যাবে।

প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৪.৫ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের। এখানে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিনসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি উৎপাদন করা হয়, যার মধ্যে ডিজেলের অংশই প্রায় ৪৫ শতাংশ।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, পাইপলাইনে থাকা প্রায় ৩ লাখ টন ক্রুড অয়েল পর্যায়ক্রমে দেশে পৌঁছাবে। এর মধ্যে সৌদি আরব, আবুধাবি ও অন্যান্য উৎস থেকে আমদানি করা চালান রয়েছে, যেগুলো মে মাসজুড়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে আমদানিনির্ভরতা অনেক বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতিতে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকে। বর্তমানে দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করে পূরণ করতে হচ্ছে। ফলে শোধনাগার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিকল্প পরিকল্পনা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে দীর্ঘ সময় উৎপাদন বন্ধ থাকায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে বিপিসির প্রস্তুতি ও সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন