- ০২ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বেরিয়ে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দীর্ঘদিনের আলোচনা শেষে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এতে তেলের দামের ওপর জোটটির প্রভাব কিছুটা হলেও কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কোটার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল। উৎপাদন বাড়াতে বিনিয়োগ করলেও নির্ধারিত কোটার কারণে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ দিতে পারছিল না দেশটি। ফলে স্বাধীনভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি–এর জ্যেষ্ঠ ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, সিদ্ধান্তটির সময় কিছুটা অপ্রত্যাশিত হলেও এর পটভূমি অনেক আগে থেকেই তৈরি হচ্ছিল। তার মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সহযোগিতার পরিবর্তে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং ইরান–সংক্রান্ত সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস–এর জ্যেষ্ঠ ফেলো আদনান মাজারেই বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমিরাত দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়লে দামের ওপর চাপ কমতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওপেকের প্রভাব কমে গেলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। কারণ, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে জোটটির ক্ষমতা হ্রাস পেলে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং উৎপাদক দেশগুলোর স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে।
সম্প্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়ালেও তা পরে কমে প্রায় ১০৮ ডলারে নেমে এসেছে। তবে উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করছেন, আঞ্চলিক সংঘাত শেষ হলে জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, বাজারের স্থিতিশীলতা অনেকাংশে নির্ভর করবে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।
পর্যবেক্ষকদের মতে, আমিরাতের এই পদক্ষেপ কেবল অর্থনৈতিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি ভবিষ্যতে জ্বালানি বাজারে নতুন ভারসাম্য তৈরি করতে পারে এবং ওপেকের কার্যকারিতার ওপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে।