- ২০ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতে নতুন দিক উন্মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সরকার এখন ইউরোপের স্থিতিশীল শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর পরিকল্পনায় জোর দিচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট প্রবাসী কর্মীদের বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে বিদেশে যাওয়া মোট কর্মীর প্রায় ৮২ শতাংশই গেছেন গালফ অঞ্চলে। এর মধ্যে এককভাবে সৌদি আরবেই গেছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শ্রমিক। একই সঙ্গে দেশের মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশও আসে এই অঞ্চল থেকে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে বারবার সংঘাত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ কারণে বিকল্প বাজার হিসেবে ইউরোপকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইউরোপের অন্তত এক ডজন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু দেশে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাও করছেন কর্মকর্তারা।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার থেকে পাঁচ বছরে ইউরোপে অন্তত ২০ লাখ দক্ষ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ জোরদার, ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রায় ১৭টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপের দেশগুলোর সংখ্যাই বেশি। অন্যদিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে ইউরোপে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। মোট অভিবাসনের মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ এই অঞ্চলে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষতার অভাব, ভাষাগত সীমাবদ্ধতা, ভিসা জটিলতা এবং সমন্বয়হীনতার কারণে সম্ভাবনাময় এই বাজারে বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে।
এছাড়া অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতাও একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কর্মীরা নন-শেনজেন দেশে প্রবেশ করে পরে অন্য দেশে চলে যান, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা গেলে ইউরোপের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে। এতে মধ্যপ্রাচ্যনির্ভরতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক আয়ও আরও বৈচিত্র্যময় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।