- ০২ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র–এর চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী ইরানের বন্দর অবরোধ করে রেখেছে এবং তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও হরমুজ প্রণালিতে তেল ও পণ্য পরিবহন কার্যত বাধাগ্রস্ত করেছে। এই প্রণালি দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বড় একটি অংশ পরিবহন হয়।
এ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে সরবরাহযোগ্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বৃহস্পতিবার এক পর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি উঠে যায়, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরে কিছুটা কমলেও দাম এখনও উচ্চ পর্যায়েই রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং যুদ্ধের অনিশ্চয়তা বাজারে দামের চাপ বাড়াচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার আগে যেখানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল প্রায় ৬৫ ডলার, সেখানে এখন তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
যুদ্ধবিরতির কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা স্থায়ী সমাধানে রূপ নেয়নি। ইরানের পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি সতর্ক করেছে, নতুন করে হামলা হলে তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্ন দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ তৈরি করবে।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে করণীয় নিয়ে জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছে। মার্কিন প্রশাসন চাইছে, দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের প্রভাব যেন ভোক্তাদের ওপর কম পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্যে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং কর্মসংস্থানে সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।