- ০২ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব তিনি সন্তোষজনক মনে করছেন না, যদিও তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান পরিবর্তন করলে তারা কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চাইলেও তাদের শর্তগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, ইরানের নেতৃত্বে অভ্যন্তরীণ বিভাজন রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে।
তিনি আরও জানান, ফোনে কিছু যোগাযোগ চললেও এখনো কোনো কার্যকর সমঝোতা হয়নি। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দ্রুত কোনো সমাধান না হলে কঠোর অবস্থান বজায় থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি “অতিরিক্ত চাপ, হুমকিমূলক ভাষা ও উসকানিমূলক আচরণ” থেকে সরে আসে, তাহলে তেহরান আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানও যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত।
ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় দেশটি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে মতপার্থক্যও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জার্মানি থেকে কয়েক হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ বা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আশার ইঙ্গিত মিললেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
চলমান সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং অঞ্চলজুড়ে মানবিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে, বিশেষ করে ইরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অবরোধের কারণে।
বর্তমানে দুই পক্ষই আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি, তবে অবস্থানগত দূরত্ব এখনো বড়। ফলে ইরান সংকটের দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।