Saturday, May 2, 2026

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতে নিহত ৪৪ নাবিক


ছবিঃ ২০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে সেন্টকম কর্তৃক আটককৃত ইরানের পতাকাবাহী পণ্যবাহী জাহাজ এমভি তুস্কার কাছে, আরব সাগরের একটি নির্দিষ্ট স্থানে মার্কিন জাহাজগুলো টহল দিচ্ছে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । হ্যান্ডআউট/ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড/এক্স ভায়া রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর থেকে অন্তত ৪৪ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন এবং আরও ২৯ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির নাবিক ইউনিয়ন। এই তথ্য জানিয়েছেন সামান রেজায়ি, যিনি ইরানিয়ান মার্চেন্ট মেরিনার্স সিন্ডিকেটের (IMMS) সাধারণ সম্পাদক।

তার দাবি অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে ২২ জন বেসামরিক নাবিক, ১৬ জন জেলে এবং ৬ জন বন্দর শ্রমিক রয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে এই তালিকায় ইরানের নৌবাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

রেজায়ি অভিযোগ করেন, ইরানের বন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার ফলেই এসব প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিষয়ে তিনি জাতিসংঘের অধীনস্থ International Maritime Organization-এ একাধিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। সেখানে তিনি আরও উল্লেখ করেন, অন্তত ৯ জন নাবিক এখনো নিখোঁজ।

যদিও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও সংঘাতের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা Armed Conflict Location & Event Data (ACLED)-এর তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে তিন হাজারের বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, আর পাল্টা হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ১,৬০০ হামলা চালিয়েছে ইরান।

এদিকে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে প্রায় ২০ হাজার নাবিক দীর্ঘদিন ধরে আটকা পড়ে আছেন। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করে। অন্যদিকে, ইরানও প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতারা। তাদের মতে, যুদ্ধের মাঝখানে আটকে পড়া এসব নাবিক মূলত বেসামরিক কর্মী, যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন