Thursday, April 30, 2026

যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ টানাপোড়েনের মধ্যে ইইউর যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা নিয়ে নতুন আলোচনা


ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফেরার কয়েক মাস আগে মার্ক রুটে ন্যাটোর মহাসচিব হন, যা এই সামরিক জোট এবং ইউরোপে মার্কিন মিত্রদের জন্য একটি কঠিন সময়ের সূচনা করে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । জন থিস/এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা সম্প্রতি তাদের চুক্তির একটি কম ব্যবহৃত যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা (আর্টিকেল ৪২.৭) কীভাবে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায় তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটো প্রতিশ্রুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ন্যাটো জোট ১৯৪৯ সালে গঠিত হয়, যার মূল নীতি হলো এক সদস্য আক্রান্ত হলে সেটি পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশেষ করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় ও বৈশ্বিক নীতি নিয়ে মতপার্থক্য বাড়ে। এতে ইউরোপ নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আর্টিকেল ৪২.৭ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদের জন্য পারস্পরিক প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেয়। কোনো সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যরা সহায়তা দিতে বাধ্য থাকবে বলে এতে উল্লেখ রয়েছে। তবে ন্যাটোর মতো এটির কোনো একক সামরিক কমান্ড কাঠামো বা স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই, ফলে এটি তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাইপ্রাসসহ কয়েকটি দেশ এই ধারাটিকে আরও বাস্তব ও কার্যকর রূপ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় কমিশন এই ধারার প্রয়োগ নিয়ে একটি কার্যপদ্ধতি বা “হ্যান্ডবুক” তৈরির কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানিয়েছেন, এই ধারা কেবল প্রতীকী নয়, বরং বাস্তব প্রতিশ্রুতি হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতিও এ বিষয়ে একটি দিকনির্দেশনা তৈরি করার কথা বলেছেন।

ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এই ধারা মাত্র একবার ব্যবহার করা হয়েছে ২০১৫ সালে প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর ফ্রান্স এটি আহ্বান করেছিল। সেই সময় অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ গোয়েন্দা তথ্য ও সহায়তা প্রদান করেছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটো থেকে কোনো দেশকে বহিষ্কারের কোনো আইনি ব্যবস্থা না থাকলেও কোনো দেশ চাইলে নিজেই জোট থেকে বের হয়ে যেতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে তারা কতটা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে।

এ অবস্থায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ তাদের প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং ভবিষ্যতে আরও স্বনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন