- ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্য ভূমধ্যসাগরে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা একটি ত্রাণবাহী নৌবহরকে আটক করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সংগঠকদের দাবি, ড্রোন, যোগাযোগ ব্যবস্থায় জ্যামিং প্রযুক্তি এবং সশস্ত্র নৌযান ব্যবহার করে নৌবহরটিকে আটকে দেওয়া হয়েছে।
‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের এই মানবিক সহায়তা মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা অবস্থায় তাদের নৌযানগুলোকে সামরিক স্পিডবোট দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। একই সঙ্গে লেজার পয়েন্টিং ও অস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে ক্রুদের আত্মসমর্পণের মতো অবস্থায় যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, ৫৮টি নৌযানের মধ্যে অন্তত ২২টি নৌযান ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে, তবে এখনো কয়েকটি নৌযান গাজার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী সূত্রের বরাতে দেশটির সামরিক রেডিও জানিয়েছে, গাজাগামী ত্রাণবাহী নৌযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযান শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, নৌবহরটি ইসরায়েলি সীমার কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই থামানো হয়েছে এবং তারা নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তবে নৌবহরের একজন মুখপাত্র এই অভিযানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে “আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র বেসামরিক নৌযানের ওপর সরাসরি হামলা” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, নৌবহরের সঙ্গে থাকা শতাধিক মানবাধিকারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
ফ্লোটিলার সংগঠকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থানকালে এই অভিযান শুরু হয়, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি দূরত্বে পরিচালিত একটি সামরিক পদক্ষেপ।
নৌবহরটির সঙ্গে যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়েছে এবং কিছু নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলেও জানানো হয়। সংগঠনের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাধা সৃষ্টি করে মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা চালানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর চেষ্টা এবং সামরিক বাধার এই সংঘর্ষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নৌবহরটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।