Thursday, April 30, 2026

কাশ্মীরে সেনা অভিযানে যুবকের মৃত্যুকে ঘিরে বিতর্ক, পরিবারের অভিযোগ তদন্তের দাবি


ছবিঃ গত মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে নিহত তাঁর ছোট ভাই রশিদের পরিচয়পত্র হাতে ধরে আছেন এজাজ আহমেদ মুঘল (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের গান্ডেরবাল জেলার একটি সেনা অভিযানে ৩২ বছর বয়সী রাশিদ আহমদ মুগল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনী তাকে “সন্দেহভাজন বিদ্রোহী” হিসেবে অভিযানে নিহত হওয়ার দাবি করলেও পরিবার ও স্থানীয়রা এটিকে “ভুয়া সংঘর্ষ” বলে অভিহিত করেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ মার্চ, আরাহামা এলাকায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে সশস্ত্র বিদ্রোহীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ে রাশিদ নিহত হন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।

নিহত রাশিদ একজন কমার্স গ্র্যাজুয়েট ছিলেন এবং গ্রামের মানুষের সরকারি নথিপত্রসহ বিভিন্ন কাজে সহায়তা করতেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। বড় ভাই আজাজ আহমদ মুগল জানান, ঘটনার দিন সকালে রাশিদ সাধারণ কাজের মতোই বাড়ি থেকে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। পরে পুলিশ তাকে “সন্দেহভাজন বিদ্রোহী” হিসেবে শনাক্ত করে পরিবারকে জানায়।

পরিবারের অভিযোগ, রাশিদের মরদেহ এমনভাবে বিকৃত করা হয়েছিল যাতে তাকে সহজে চেনা না যায়। ভাই আজাজ বলেন, “আমরা তার পা দেখে তাকে শনাক্ত করেছি। আমাদের ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের রেকর্ডও ছিল না।”

ঘটনার পর কাশ্মীরজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা সেনাবাহিনীর দাবি প্রত্যাখ্যান করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায়। প্রশাসন একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের ঘোষণা দিলেও এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, কাশ্মীরে বহু বছর ধরে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মতে, বিশেষ ক্ষমতা আইনের কারণে (AFSPA) অনেক ক্ষেত্রে জবাবদিহির ঘাটতি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর ইস্যু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান, অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ—এ দুটি বাস্তবতা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে।

পরিবার জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে রাশিদের জন্য কবর প্রস্তুত করেছে এবং মরদেহ ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছে। তাদের দাবি, “সত্য প্রকাশ না হলে এই ক্ষতি কখনোই পূরণ হবে না।”

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন