- ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
রাশিয়া অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে ‘চুরি করা শস্য’ ইসরায়েলে আমদানি করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইউক্রেন। বিষয়টি দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, রাশিয়া অধিকৃত অঞ্চল থেকে লুট করা শস্যবোঝাই একটি জাহাজ ইসরায়েলের হাইফা বন্দরে পৌঁছেছে। এটি এ ধরনের দ্বিতীয় চালান বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সিবিহা বলেন, ইউক্রেন ও ইসরায়েলের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে রাশিয়ার অবৈধভাবে দখলকৃত অঞ্চলের শস্য বাণিজ্য এই সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে না। তিনি জানান, ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার এই অভিযোগকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করা কূটনৈতিক আচরণ নয়” এবং “অভিযোগ প্রমাণ নয়”। তার মতে, বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা মিডিয়া বা অনলাইনে নয়, বরং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে হওয়া উচিত।
রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। কিয়েভের দাবি, এসব অঞ্চলে উৎপাদিত শস্য অবৈধভাবে বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
এদিকে কূটনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্ল্যাক সি অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে বড় ধরনের আগুন লেগেছে এবং শতাধিক উদ্ধারকর্মী সেখানে কাজ করছে।
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার একাধিক তেল রপ্তানি টার্মিনাল ও শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা রাশিয়ার জ্বালানি অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।
পরিস্থিতি বিশ্লেষকদের মতে, শস্য রপ্তানি নিয়ে কূটনৈতিক বিরোধ এবং জ্বালানি খাতে হামলা—এই দুই ইস্যু মিলিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক পরিসরে।