- ২৮ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল, লেবাননের এই সশস্ত্র গোষ্ঠী বড় ধরনের দুর্বলতায় পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বলছে, সেই ধারণা এখন প্রশ্নের মুখে।
যুদ্ধবিরতির সময় ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হয় এবং দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েল। এরপর লেবাননে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়, এমনকি তাদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সেই দুর্বলতার ধারণা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে আবারও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে হিজবুল্লাহ। এতে স্পষ্ট হয়েছে, সংগঠনটির সামরিক সক্ষমতা এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে টিকে আছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল সীমিত আকারে লেবাননে হামলা চালিয়ে গেছে এবং এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। মার্চ মাসে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ে, যখন বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে।
হিজবুল্লাহ ঘোষণা করেছে, একতরফা যুদ্ধবিরতি তারা আর মেনে নেবে না এবং ইসরায়েলি হামলার জবাব দেবে। সংগঠনটির এক সামরিক নেতার বরাতে জানা গেছে, তারা অতীতের মতো আত্মঘাতী হামলার কৌশলও পুনর্বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনটি এখনও বিপুল সংখ্যক যোদ্ধা, অস্ত্র এবং সংগঠিত কাঠামো ধরে রেখেছে। ফলে তাদের শক্তি নিয়ে যে ধারণা ছিল, তা অনেকটাই অতিরঞ্জিত ছিল।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করছে। তারা বলছে, এই ধরনের আলোচনা লেবাননের স্বার্থ রক্ষা করবে না।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান কূটনৈতিক আলোচনাও পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইরান দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহকে আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের অগ্রগতি বা অবনতির সঙ্গে সংগঠনটির অবস্থান সরাসরি যুক্ত।
তবে লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহ এখনো জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে, যদিও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলকভাবে কম।
সার্বিকভাবে পরিস্থিতি এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যেখানে সামরিক সংঘাত, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক আলোচনার জটিল সমীকরণে হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।