Tuesday, April 28, 2026

কাশ্মীরের জামিয়া সিরাজ-উল-উলুম মাদরাসাকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা, তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে


ছবিঃ ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শ্রীনগরের জামিয়া মসজিদের ভেতরে একজন কাশ্মীরি ব্যক্তি নামাজ পড়ছেন, ১৩ নভেম্বর, ২০২১ (সংগৃহীত । আল জাজিরা । মুখতার খান/এপি ফটো)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া সিরাজ-উল-উলুমকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় “অবৈধ” ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কাশ্মীর ডিভিশনাল কমিশনার অনশুল গর্গ একটি পুলিশ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত জারি করেন। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন জামায়াতে ইসলামী (JeI)-এর সঙ্গে মাদরাসাটির কিছু গোপন ও ধারাবাহিক যোগাযোগ থাকতে পারে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত এই মাদরাসাটি দক্ষিণ কাশ্মীরের অন্যতম বৃহৎ ইসলামি শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এটি জম্মু ও কাশ্মীর শিক্ষা বোর্ডের স্বীকৃত একটি প্রতিষ্ঠানও।

মাদরাসার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ আইন মেনে পরিচালিত হয় এবং কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

কাশ্মীরের একাধিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। একজন সংসদ সদস্য এটিকে কাশ্মীরের নাগরিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ধারাবাহিক চাপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও সামাজিক সংগঠনগুলোর ওপর এমন পদক্ষেপ সমাজে আস্থার সংকট তৈরি করছে।

কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও এই সিদ্ধান্তকে “দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের অন্যায়” বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ উদ্বেগজনক।

এদিকে কাশ্মীরের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুক প্রশাসনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে একের পর এক গ্রেপ্তার, সম্পত্তি জব্দ এবং প্রশাসনিক চাপ বেড়েছে, যা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে।

২০১৯ সালে ভারতের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর থেকে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন সীমিত হয়ে যায় এবং অঞ্চলটি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর থেকেই শিক্ষা, ধর্মীয় কার্যক্রম ও জনসমাবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত কাশ্মীরের সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রশাসনিক চাপ আরও বাড়াবে এবং অঞ্চলটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন