- ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
সুদানের পূর্ব দারফুর রাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যেখানে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, চিকিৎসা সেবা ও টিকার অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
লাবাদো এলাকার বাসিন্দা হাওয়া আদম জানান, তার দুই বছর বয়সী ছেলে আলি ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং দুই দিনের মধ্যেই মারা যায়। তিনি বলেন, প্রথমে তিনি বিষয়টি সাধারণ শৈশব রোগ বলে মনে করেছিলেন, কিন্তু পরে বুঝতে পারেন এটি একটি মারাত্মক মহামারির অংশ।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও কমিউনিটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাস থেকে লাবাদোসহ কয়েকটি এলাকায় হামের সংক্রমণ শুরু হয়। প্রায় ১২টি আবাসিক এলাকায় এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং অনেক শিশু প্রাণ হারায়। তবে সরকারি ও স্থানীয় সূত্রের মধ্যে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে।
একটি স্থানীয় সংকট ব্যবস্থাপনা দলের সমন্বয়কের মতে, আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় এক হাজার এবং মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৭০ জনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। অন্যদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ সময় টিকাদান বন্ধ থাকা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার ধস এই পরিস্থিতির মূল কারণ। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক চিকিৎসক এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন, ফলে স্থানীয়রা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, অবশেষে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় কিছু টিকা ও ভিটামিন সরবরাহ করা হয়েছে, তবে তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। কিছু এলাকায় সাময়িক টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও তা পুরো অঞ্চলের জন্য যথেষ্ট নয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ, যা বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। রোগটি বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায় এবং সঠিক চিকিৎসা না পেলে জটিলতা বাড়ে।
লাবাদোর বাসিন্দারা জানান, অনেক পরিবার চিকিৎসা খরচ বহন করতে না পারায় ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর নির্ভর করছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। ওষুধের অভাব এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সরবরাহ সংকট পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে।
স্থানীয় চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রম পুনরায় স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানায়, দারফুর অঞ্চলে টিকাদানের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে এবং চলমান সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় পরিবারগুলো এখন প্রতিদিন নতুন মৃত্যুর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। অনেক মা-বাবা বলছেন, অর্থের অভাবে চিকিৎসা না পাওয়ায় তাদের সন্তানদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত এবং ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি ছাড়া এই সংকট নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। বর্তমানে লাবাদোসহ পুরো পূর্ব দারফুর অঞ্চল কার্যত একটি স্বাস্থ্য সংকটের মধ্যে রয়েছে, যা দ্রুত আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ দাবি করছে।