Tuesday, April 28, 2026

যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে রাজা চার্লসের গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সফর


ছবিঃ ২১শে এপ্রিল, প্রয়াত রানীর ১০০তম জন্মবার্ষিকীতে, মধ্য লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়াম থেকে রানী এলিজাবেথ স্মৃতিসৌধের চূড়ান্ত নকশা দেখার পর ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস বেরিয়ে আসছেন। অ্যাড্রিয়ান ডেনিস/এএফপি/গেটি ইমেজেস (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক “বিশেষ সম্পর্ক” আবারও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। এমন এক সময়েই ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন, যা দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে লক্ষ্য করে একাধিক কড়া মন্তব্য করেন। তিনি স্টারমারকে “পরাজিত” বলে অভিহিত করেন এবং তুলনা টানেন ইতিহাসের বিতর্কিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেইনের সঙ্গে। পাশাপাশি তিনি ব্রিটেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করেন, এমনকি ব্রিটিশ নৌবাহিনীর কিছু সম্পদকে “খেলনার মতো” বলেও মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্যের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ অবস্থায় রাজা চার্লসের সফরকে ব্রিটিশ সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরের অংশ হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ভাষণ দেবেন, যা ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে বিরল একটি ঘটনা। এছাড়া তিনি ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজা চার্লস রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকলেও তার সফর কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। ব্রিটিশ কর্মকর্তারা আশা করছেন, তিনি ব্যক্তিগত ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবেন।

তবে এই সফর সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক নীতি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্য সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপে সরাসরি সহায়তা দিতে অনাগ্রহী হওয়ায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজা চার্লস পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা রাখলেও এটি ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ট্রাম্পের জ্বালানি নীতি এবং নবায়নযোগ্য শক্তির বিরোধিতা রাজা চার্লসের অবস্থানের বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে।

তবুও দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও পারস্পরিক নিরাপত্তা জোটের কারণে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বরং রাজা চার্লসের সফর একটি “সেতুবন্ধন” হিসেবে কাজ করতে পারে।

সফরের সময় রাজা চার্লস হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া তিনি ৯/১১ স্মৃতিসৌধ, বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্প এবং মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গেও দেখা করবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফরের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব পুনরায় তুলে ধরা।

ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতেও টিকে থাকবে। রাজা চার্লসের এই সফর সেই সম্পর্ককে নতুন করে শক্তিশালী করার একটি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন