- ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পারস্পরিক পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে বৈশ্বিক শিপিং খাতের একটি শীর্ষ সংগঠন। একই সঙ্গে আটক থাকা নাবিকদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব শিপিংয়ের মেরিন পরিচালক জন স্টওয়ার্ট এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সমুদ্রপথে কর্মরত নাবিকদের রাজনৈতিক বিরোধের বাইরে রেখে নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ থাকা উচিত। তার মতে, বাণিজ্যিক জাহাজকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে আটক করা আন্তর্জাতিক আইন ও সমুদ্র চলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, জাহাজগুলো মূলত বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবহনের কাজ করে থাকে, তাই রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে এগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথে এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্প্রতি পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সমুদ্র এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেল পরিবহনকারী কিছু জাহাজ আটক করেছে। অন্যদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও বিভিন্ন জাহাজ আটক করে অনুমোদনবিহীন কার্যক্রম ও ন্যাভিগেশন সিস্টেমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছে।
বিভিন্ন দেশের নাবিকও এসব জাহাজে ছিলেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, আটক থাকা অনেক নাবিক নিরাপদ আছেন, তবে তাদের অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ এখনো রয়েছে।
শিপিং সংস্থাটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় প্রায় ২০ হাজারের বেশি নাবিক আটকে পড়েছেন, যা তাদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় জাহাজ চলাচল অনেক কমে গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ এই রুটের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে এবং জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।