- ১১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
তাইওয়ান জানিয়েছে, নিজেদের সমুদ্রসীমায় চীনের কর্তৃত্ব দাবি করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা সহ্য করবে না। দ্বীপটির কোস্ট গার্ড বলেছে, বিদেশি কোনো জাহাজ বা বাহিনী যদি ওই জলসীমায় আধিপত্য দেখানোর চেষ্টা করে, তাদের “বাহির করে দেওয়া হবে”।
তাইওয়ানের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে এমন এক সময়, যখন চীন পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় একটি সামুদ্রিক টহল কার্যক্রম শেষ করেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাপান ও ফিলিপাইন তাদের সামুদ্রিক সীমানা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পর বেইজিংয়ের সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। চীন মনে করছে, এই আলোচনা তাইওয়ান সংলগ্ন জলসীমাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই বিশেষ সামুদ্রিক অভিযান চলাকালে পূর্ব তাইওয়ান সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ১৯৮টি জাহাজ পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং কয়েকটি ক্ষেত্রে “নিয়ম লঙ্ঘন” শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি নৌপথ ও সমুদ্রতলের কেবল এলাকায় জরিপ কার্যক্রমও পরিচালনা করা হয়।
তাইওয়ান কোস্ট গার্ড জানায়, চীনের এসব কার্যক্রমের কোনো বৈধ এখতিয়ার নেই। তাদের দাবি, ওই জলসীমা আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের জন্য উন্মুক্ত এবং তাইওয়ান নিজেই সেখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। প্রয়োজন হলে চীনা জাহাজকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
তাইওয়ান কোস্ট গার্ডের এক মুখপাত্র বলেন, “আমাদের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব অখণ্ড। কোনো দেশ যদি এখতিয়ার দাবি করে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
এদিকে তাইওয়ান আরও অভিযোগ করেছে, ওই অঞ্চলে চলাচলকারী কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে চীনা কোস্ট গার্ড জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং তাদের গন্তব্য ও উৎস সম্পর্কে তথ্য চেয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তাইওয়ানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে চীনা জাহাজ সীমিত সময়ের জন্য সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ করলেও পরে সতর্কবার্তার পর সরে যায়।
চীন-তাইওয়ান উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান। চীন নিয়মিতভাবে তাইওয়ানের আশপাশে যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনী মোতায়েন করে থাকে। অন্যদিকে তাইওয়ান বলছে, তাদের ভবিষ্যৎ কেবলই দ্বীপের জনগণই নির্ধারণ করবে এবং তারা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষেই অবস্থান করছে।