Thursday, June 11, 2026

ভারতে অস্বাভাবিক ডেঙ্গু প্রবণতা, উদ্বেগে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা


ছবিঃ ভারতের নয়াদিল্লিতে, ডেঙ্গু এবং অন্যান্য মশাবাহিত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ প্রতিরোধের জন্য মশার প্রজননস্থল কমাতে নয়াদিল্লি পৌরসভার (এনডিএমসি) একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী একটি বস্তি এলাকায় ধোঁয়া ছিটাচ্ছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /রজত গুপ্ত/ইপিএ)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রকোপ এখন আর শুধু বর্ষাকালেই সীমাবদ্ধ নেই বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে মশাবাহিত এই রোগটি ধীরে ধীরে সারা বছরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।

সম্প্রতি গুরগাঁওয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার নীতিন শর্মা উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রথমে তিনি ডেঙ্গুর কথা ভাবেননি। তার ধারণা ছিল, বর্ষার আগে ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু হাসপাতালে পরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে, যা তার কাছে সময়ের হিসেবে অপ্রত্যাশিত ছিল। চিকিৎসার পরও কয়েক সপ্তাহ দুর্বলতা ও ক্লান্তি ভোগ করতে হয় তাকে।

চিকিৎসকদের মতে, এমন ঘটনা এখন ভারতে ক্রমশ বাড়ছে। সাধারণত জুন-সেপ্টেম্বর বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা গেলেও এখন অনেক রাজ্যে মৌসুম শুরুর আগেই সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মশার প্রজননের সময়কাল দীর্ঘ হচ্ছে এবং উষ্ণ আবহাওয়ায় এডিস মশা আরও বেশি সময় টিকে থাকতে পারছে। এর ফলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ আগের তুলনায় দীর্ঘায়িত ও বিস্তৃত হচ্ছে।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই দেশটিতে কয়েক হাজার ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাডু, মহারাষ্ট্র, কেরালা ও কর্ণাটকে প্রাথমিক সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের মতে, আগে যেখানে ডেঙ্গু মূলত বর্ষা পরবর্তী সময়ে সীমাবদ্ধ ছিল, এখন সেই চক্র ভেঙে যাচ্ছে। অনেক হাসপাতালে বছরের শুরু থেকেই সন্দেহভাজন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে বায়ুদূষণ, বিশেষ করে ক্ষুদ্র কণিকা (PM2.5) ডেঙ্গুর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বাড়াতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দূষণের মাত্রা বেশি থাকা অঞ্চলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় ভারত সরকার ও বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান নতুন টিকা উন্নয়ন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভেক্টর নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নকে অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগ নয় এটি ধীরে ধীরে একটি সারা বছরজুড়ে জনস্বাস্থ্য হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন