- ১১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে টানা দুই দিনের অভিবাসনবিরোধী সহিংসতাকে “বর্ণবাদী সন্ত্রাস” বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড বিষয়ক মন্ত্রী হিলারি বেন। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দ্বিতীয় রাতেও দাঙ্গাকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়েছে।
সরকারি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবারের তুলনায় বুধবার রাতে সহিংসতার মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। মঙ্গলবার দাঙ্গাকারীরা অভিবাসী ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়, বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসব ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এক ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে এক সুদানি নাগরিকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বুধবার রাতে কিছু দাঙ্গাকারী বেলফাস্টের বাইরে একটি হোটেলের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে, যেখানে আশ্রয়প্রার্থীদের রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং দাঙ্গা দমনকারী বিশেষ রাউন্ড বা ব্যাটন রাউন্ড ব্যবহারেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হিলারি বেন বলেন, “যদি আপনি মানুষের ত্বকের রঙের কারণে তাদের লক্ষ্য করেন, তাহলে এটিকে আর কিছুই বলা যায় না এটি নিঃসন্দেহে বর্ণবাদী সন্ত্রাস।”
পুলিশ ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সহিংসতার অনেক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছে। অনলাইনে আশ্রয়প্রার্থীদের অবস্থান সম্পর্কিত তালিকা ছড়িয়ে পড়া এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা প্রকাশের ঘটনাও সামনে এসেছে।
একটি নার্সিং ইউনিয়নের কর্মকর্তা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে জাতিগত সংখ্যালঘু নার্সদের হুমকি ও বাধার মুখে কাজ করতে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদরা জানিয়েছেন, কিছু এলাকায় “টার্গেট লিস্ট” অনুযায়ী পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে।
মন্ত্রী হিলারি বেন আরও বলেন, এই সহিংসতা উত্তর আয়ারল্যান্ডের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, কর্মস্থলে যাওয়া বা দৈনন্দিন চলাচলের সময়ও অনেক মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তেজনা বাড়ছে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক বক্তব্য ও উসকানিমূলক প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সরকার বলছে, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।