- ১১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতে আবারও তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই দেশ একে অপরের ওপর বিমান ও সামরিক হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত শান্তিচুক্তিতে রাজি না হলে আরও বড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সংঘাতের মধ্যেও পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি প্রাথমিক সমঝোতার দিকে অগ্রগতি হয়েছে। কয়েকজন ইরানি সূত্র ও এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম)-এর খসড়া নিয়ে বার্তা বিনিময় করছে। তবে এখনো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশেষ করে বিদেশে আটকে থাকা বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ ছাড়ের প্রক্রিয়া নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এক ইরানি সূত্রের দাবি, “সামরিক দিক থেকে এই যুদ্ধ এখন অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেও লক্ষ্য পূরণ করতে পারেনি। আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে।”
অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ আলোচনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা বেড়েছে এবং জ্বালানি তেলের বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও আকাশ প্রতিরক্ষা লক্ষ্য করে সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে। এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) কুয়েত, বাহরাইন এবং অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে।
এদিকে ইরান বলছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যেকোনো জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রুট। তবে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, প্রণালীটি বন্ধ হয়নি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।
সংঘাতের মধ্যেই ইরানের বিদেশে আটকে থাকা তেল রাজস্ব ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। ইরান প্রায় ৬ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের দাবি তুলেছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে মানবিক খাতে অর্থ ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে, কারণ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই কূটনৈতিক সমাধানের ইঙ্গিত দিলেও, মাঠ পর্যায়ে সামরিক সংঘর্ষ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।