Saturday, April 25, 2026

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্থানীয় নির্বাচনে অনাগ্রহ ও আস্থাহীনতা, পরিবর্তনের প্রশ্নে বিভক্ত জনমত


ছবিঃ হানি ওদেহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের কুসরা শহরের বিদায়ী মেয়র। (সংগৃহীত । আল জাজিরা)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে দীর্ঘ বিরতির পর স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভোটকে ঘিরে ফিলিস্তিনের জনগণের মধ্যে অনাগ্রহ, হতাশা ও আস্থাহীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেক ফিলিস্তিনের  বাসিন্দার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে এই নির্বাচন তাদের দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন আনতে পারবে না।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) পশ্চিম তীরের বিভিন্ন পৌরসভা ও গ্রাম পরিষদে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রায় পাঁচ বছর পর ভোটের আয়োজন করা হলেও বড় শহরগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন না হয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থী তালিকার মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সমালোচনা রয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ বসতি স্থাপন, নিরাপত্তা সংকট, চলাচলে বাধা এবং অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজ চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। কুসরা শহরের বিদায়ী মেয়র হানি ওদেহ বলেন, বারবার আক্রমণ, অবকাঠামোর ক্ষতি এবং সীমিত সম্পদের কারণে ফিলিস্তিনের জনগণকে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তিনি এবার নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়েছে, কারণ অনেকেই মনে করেন বর্তমান কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ভোটে শতাধিক স্থানীয় পরিষদে হাজার হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ তরুণ ফিলিস্তিনের ভোটার। তবে ভোটারদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

রামাল্লাহ ও নাবলুসের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে সরাসরি ভোট না হয়ে একক তালিকার মাধ্যমে প্রার্থী নির্ধারণ করা হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনের সমাজে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ব্যবস্থা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা সীমিত করছে।

তবে কিছু ফিলিস্তিনের নাগরিক এখনো পরিবর্তনের আশা দেখছেন। তাদের মতে, নতুন নেতৃত্ব স্থানীয় পর্যায়ে রাস্তা, পরিচ্ছন্নতা, কর্মসংস্থানসহ মৌলিক সেবায় কিছু অগ্রগতি আনতে পারে।

অন্যদিকে, অনেক ফিলিস্তিনের মনে করেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংকট এবং দখলদারিত্বের বাস্তবতা অপরিবর্তিত থাকলে স্থানীয় নির্বাচন খুব সীমিত প্রভাব ফেলবে। ফিলিস্তিনের কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থাহীনতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ফিলিস্তিনের জনগণের মধ্যে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষা থাকলেও কার্যকর রাজনৈতিক কাঠামো ও বাস্তব ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচনের প্রভাব সীমিত থেকে যাচ্ছে। ফলে ভোট অনুষ্ঠিত হলেও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে “আসল পরিবর্তন আসবে কি না” এই প্রশ্ন এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন