- ২৯ এপ্রিল, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জাউন এলাকায় ইসরায়েলের ধারাবাহিক দুই দফা বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন ছিলেন সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকর্মী, যারা প্রথম হামলায় আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় হামলায় প্রাণ হারান বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এ ঘটনাকে “নৃশংস অপরাধ” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি একটি যুদ্ধাপরাধের শামিল। তিনি আরও জানান, লেবানন সরকার আন্তর্জাতিক ফোরামে এ ঘটনার কঠোর নিন্দা জানাবে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাবে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা যায়, প্রথম হামলার পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করতে গেলে উদ্ধারকর্মীরা দ্বিতীয় হামলার শিকার হন। পরে তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। একই ঘটনায় লেবানন সেনাবাহিনীর দুই সদস্যও আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্র ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম হামলার পর একটি লেবাননি সেনা টহল দল এবং উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় হামলা চালানো হয়। এতে উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যবহৃত বুলডোজারসহ বিভিন্ন যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, এ ধরনের হামলা প্রমাণ করে যে ইসরায়েল বারবার আন্তর্জাতিক আইন ও যুদ্ধবিধি লঙ্ঘন করছে। তিনি জানান, উদ্ধার ও চিকিৎসা কাজে নিয়োজিত কর্মীরা বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিকে উৎসাহিত করছে। তারা ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধসহ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, মঙ্গলবার দেশজুড়ে বিভিন্ন হামলায় মোট অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত লেবাননে হাজারের বেশি মানুষ হতাহত হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে।