Thursday, April 30, 2026

ইরানগামী বাণিজ্যের জন্য ছয়টি ট্রানজিট রুট চালু পাকিস্তানের


ছবিঃ পাকিস্তানের করাচি বন্দর এলাকার কাছে শিপিং কন্টেইনার ভর্তি একটি গুদাম প্রাঙ্গণের পাশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে, ৩১ জুলাই, ২০২৫ (সংগৃহীত । আল জাজিরা । আখতার সোমরো/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ইরানগামী পণ্যের পরিবহনের জন্য ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট চালু করেছে পাকিস্তান। নতুন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটি তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে তৃতীয় দেশের পণ্য সড়কপথে ইরানে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করেছে। একই সময়ে করাচি বন্দরে বিপুল সংখ্যক কনটেইনার আটকে পড়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৫ এপ্রিল ‘ট্রানজিট অব গুডস থ্রু টেরিটরি অব পাকিস্তান অর্ডার ২০২৬’ জারি করে, যা সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয়। এই আদেশ অনুযায়ী, তৃতীয় দেশ থেকে আসা পণ্য পাকিস্তানের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে পরিবহন করা যাবে।

নতুন রুটগুলো পাকিস্তানের প্রধান বন্দর করাচি, পোর্ট কাসিম ও গোয়াদরকে ইরানের গাবদ ও তাফতান সীমান্তের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বেলুচিস্তান অঞ্চল দিয়ে টারবাত, পানজগুর, খুজদার, কোয়েটা ও দালবন্দিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো এই করিডরের অংশ।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, গোয়াদর-গাবদ রুটটি সবচেয়ে দ্রুততম পথ, যা ইরান সীমান্তে পৌঁছাতে মাত্র ২ থেকে ৩ ঘণ্টা সময় নেয়। অন্যদিকে করাচি থেকে একই সীমান্তে পৌঁছাতে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে। এই নতুন রুট পরিবহন খরচ ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। ফলে করাচি বন্দরে হাজার হাজার কনটেইনার আটকে রয়েছে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান এই উদ্যোগকে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং পাকিস্তানের ট্রানজিট হাব হিসেবে ভূমিকা শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদ সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই ট্রানজিট ব্যবস্থা শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এটি আফগানিস্তানের ওপর পাকিস্তানের ট্রানজিট নির্ভরতা কমিয়ে নতুন অর্থনৈতিক করিডর গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ঠিক না থাকলে এই করিডরের কার্যকারিতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন