Saturday, May 2, 2026

হিউম্যানয়েড রোবটিক্স স্টার্টআপ অ্যাসিওর্ড রোবট ইন্টেলিজেন্স অধিগ্রহণ করল মেটা


ছবিঃ হাত (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা একটি হিউম্যানয়েড রোবটিক্স স্টার্টআপ অ্যাসিওর্ড রোবট ইন্টেলিজেন্স (এআরআই) অধিগ্রহণ করেছে। যদিও চুক্তির আর্থিক মূল্য প্রকাশ করা হয়নি।

মেটার এক মুখপাত্র টেকক্রাঞ্চকে দেওয়া ইমেইল বিবৃতিতে জানান, “আমরা অ্যাসিওর্ড রোবট ইন্টেলিজেন্সকে অধিগ্রহণ করেছি, যা রোবটিক বুদ্ধিমত্তার অগ্রভাগে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান। এটি এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে রোবট জটিল ও পরিবর্তনশীল পরিবেশে মানুষের আচরণ বুঝতে, পূর্বানুমান করতে এবং মানিয়ে নিতে সক্ষম হবে।”

স্টার্টআপটির পুরো দল, যার মধ্যে সহ-প্রতিষ্ঠাতারাও রয়েছেন, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিভাগ সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবসে যোগ দেবে। এআরআই পূর্বে বিনিয়োগ পেয়েছিল এআই কেন্দ্রিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এআইএক্স ভেঞ্চার্স থেকে, তবে সেই তহবিলের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

এআরআই মূলত এমন ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করছিল, যা হিউম্যানয়েড রোবটকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক কাজ যেমন গৃহস্থালি কাজ সম্পাদনে সক্ষম করে তুলবে। স্টার্টআপটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিয়াওলং ওয়াং আগে এনভিডিয়া-তে গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান ডিয়েগোতে সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি একাধিক সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

অন্য সহ-প্রতিষ্ঠাতা লেরেল পিন্টো এর আগে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং অ্যামাজন অধিগ্রহণের আগে শিশুদের আকারের রোবট নির্মাতা ফাউনো রোবোটিক্স সহ-প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনিও একাধিক গবেষণা পুরস্কারে সম্মানিত।

মেটা দীর্ঘদিন ধরেই হিউম্যানয়েড রোবটিক্স প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এক বছর আগে ফাঁস হওয়া একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা যায়, কোম্পানিটি এমন রোবট তৈরির পরিকল্পনা করছে, যা ভোক্তাদের জন্য হতে পারে এবং যার ভিত্তি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও হার্ডওয়্যার প্রযুক্তি।

বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ মনে করেন, কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই অর্জনের পথে কেবল ডেটা নয়, বাস্তব জগতে রোবটের মাধ্যমে শেখার প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ রোবটরা সরাসরি পরিবেশের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে শেখার সক্ষমতা অর্জন করবে।

এআরআই ও ফাউনো অধিগ্রহণের মতো পদক্ষেপগুলো রোবটিক্স খাতে দ্রুত প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাজারের সম্ভাব্য আকার নিয়ে মতভেদ রয়েছে—কিছু পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে ২০৩৫ সালের মধ্যে এটি প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার হতে পারে, আবার কিছু গবেষণায় ২০৫০ সালের মধ্যে এর আকার ৫ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। এই বিশাল ব্যবধান প্রযুক্তিটির সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা—দুটিকেই প্রতিফলিত করে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন