Saturday, May 2, 2026

লেবানন থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান চীনের


ছবিঃ ২০২৬ সালের ১৫ই এপ্রিল, দক্ষিণ লেবাননের টায়ারে ইউনিফিলের একটি কনভয় (সংগৃহীত । আল জাজিরা । লুইসা গুলিয়ামাকি/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

লেবাননে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (ইউএনআইএফআইএল) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং।

শুক্রবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, লেবাননের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বেইজিং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মে মাসে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ঘূর্ণায়মান সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, লেবাননে প্রকৃত অর্থে কোনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নেই। তাঁর ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিকে বরং “কম মাত্রার সংঘাত” বলা যেতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, নিরাপত্তা পরিষদের অধিকাংশ সদস্যই মনে করেন যে এখনই এই বাহিনী প্রত্যাহারের উপযুক্ত সময় নয়।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন জুন মাসে প্রকাশের কথা রয়েছে। সেই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই চীন তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানাবে।

ফু কং বলেন, লেবাননে চলমান সামরিক হামলা বন্ধ করা ইসরায়েলের দায়িত্ব। তিনি দ্রুত সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

১৯৭৮ সালে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার পর্যবেক্ষণের জন্য লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর মিশনের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত করা হয়। বর্তমানে এই বাহিনী সীমান্ত এলাকায় একটি বাফার জোন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করছে।

গত বছর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই মিশন প্রত্যাহার করা হবে, যেখানে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ শান্তিরক্ষী মোতায়েন রয়েছে।

লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ের সংঘাতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

জাতিসংঘ সূত্র জানায়, সংঘাত শুরুর পর শান্তিরক্ষা মিশনের অন্তত কয়েকজন সদস্য নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছেন। বিভিন্ন দেশের শান্তিরক্ষীরা গোলাবর্ষণ ও হামলার ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এসব হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, শান্তিরক্ষীরা মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সরাসরি হামলার শিকার হচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন